পঞ্চাশোর্ধ ইলোরা খান অলস জীবনযাপন করেন। ইদানিং তার হাঁটাচলায় পায়ে ব্যথা অনুভব হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন তার অস্থি ভঙ্গুর হয়ে ঘনত্ব কমে যাচ্ছে।
গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিশ্রুত তরল উৎপন্ন করে। এই তরলকে আল্ট্রাফিলট্রেট বলে।
মূত্র সামান্য অম্লীয় প্রকৃতির। মূত্রের pH মান ৫.০-৬.৫। আমিষ জাতীয় খাবার খেলে মূত্রের অম্লত্ব বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত মাছ, মাংস খেলে আমাদের মূত্রের pH মান কমে যাবে। আর pH এর মান কমে যাওয়া মানি অম্লত্ব বৃদ্ধি পাওয়া। অর্থাৎ তখন মূত্র বেশি অম্লীয় হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত টিস্যু দ্বারা ঐচ্ছিক পেশি টিস্যুকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
ঐচ্ছিক পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। ঐচ্ছিক পেশিটিস্যুর কোষগুলো নলাকার, শাখাবিহীন ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত হয়। এরা দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার ও প্রস্থে ১০-৪০ মাইক্রোমিটার। প্রতিটি পেশিকোষের নিজস্ব কোষঝিল্লি আছে এবং তা খুবই সুস্পষ্ট। কোষের সাইটোপ্লাজমে পরিধির দিকে একাধিক ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। কোষে অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে কারণ এসব কোষের প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। এই পেশি দ্রুত সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে পারে। ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রে সংলগ্ন থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি হলো অস্টিওপোরোসিস যা ক্যালসিয়াম অভাবজনিত রোগ। যারা অলস জীবনযাপন করেন, কায়িক পরিশ্রম কম করেন তাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ ও সঠিক জীবন প্রণালির মাধ্যমে ইলোরা বেগম এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব দিকে লক্ষ রাখতে হবে তা হলো-
i. পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ ও মহিলাদের দৈনিক 1200 মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা।
ii. ননীতোলা দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য গ্রহণ করা।
iii. কমলার রস, সবুজ শাকসবজি, সয়াদ্রব্য ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।
আবার, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে তা হলো-
i. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা।
ii. নিয়মিত ব্যায়াম করা।
iii. সুষম আশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
তাই আলোচনা থেকে বলা যায়, ইলোরা বেগম উপরিউক্ত নিয়মগুলো মেনে চললে উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি (অস্টিওপোরোসিস) থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
