A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘শর্মিলা দীর্ঘদিন ধরে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – রেচন প্রক্রিয়া, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড📅 সাল: ২০২২⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

শর্মিলা দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যথার ওষুধ সেবন করে আসছেন। ইদানি তার প্রস্রাব কম হওয়ার কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন এবং জানতে পারবেন তার রক্তে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেশি ও একটি বিশেষ অস ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উত্তর:

নেফ্রন: বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও কার্যিক একককে নেফ্রন বলে। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

উত্তর:

মানবদেহের যাবতীয় শারীরবৃত্তীক কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। শরীরে কোনো কারণে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে তা বৃক্কের মাধ্যমে মূত্র হিসেবে বেরিয়ে যায়। আবার কোনো কারণে পানির পরিমাণ কমে গেলে বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। এভাবে দেহে পানির সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে। অসমোরেগুলেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বৃক্ক।

উত্তর:

উদ্দীপকের আলোচিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক বা কিড়নি। এর চিহ্নিত চিত্র নিম্নরূপ:

উত্তর:

উদ্দীপকের শর্মিলার বৃক্ক বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ডায়ালাইসিস কিংবা বৃক্ক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যার প্রতিকার করা যায়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

ডায়ালাইসিস: বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হবার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। 'সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত টিউবটির মধ্য দিয়ে ডায়ালাইসেট প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে  বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে -দেহের ভিতর পুনরায় প্রবেশ করে। এখানে উল্লেখ্য যে ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেন জাতীয় ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

প্রতিস্থাপন: যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়, তখন তাকে কিডনি সংযোজন বলে। কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়- কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির * কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাইবোন, মামা, খালাকে বোঝায়। মৃত ব্যক্তি বলতে 'ব্রেন ডেড' মানুষকে বোঝায়, যাঁর আর কখনোই জ্ঞান ফিরবে না কিন্তু তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখা হয়েছে। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন কিডনি বিকল বা অকেজো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হয়। মানুষের একটি কিডনি কার্যক্ষম থাকলেই সেটি দিয়ে জীবনধারণ করা সম্ভব। তাই একটি সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করে রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে দেখতে হবে যে টিস্যু ম্যাচ করে কিনা। পিতামাতা, ভাইবোন এবং নিকট আত্মীয়ের কিডনির টিস্যু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

10 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘শর্মিলা দীর্ঘদিন ধরে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – রেচন প্রক্রিয়া, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”