মাহিনের দীর্ঘদিন ধরে পরিমাণ মতো প্রস্রাব হচ্ছেনা। তার শরীর আন্তে আস্তে ফুলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ডাক্তার তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানালেন তার একটি বিশেষ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। ডাক্তার তাকে রক্ত পরিশোধনের পরামর্শ দিলেন। অপরদিকে, তার প্রতিবেশি শাহীন একই রোগে আক্রান্ত হলেও তিনি রক্ত পরিশোধন না করে নিকট আত্মীয়ের অঙ্গ দানের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
নেফ্রন: বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
মানবদেহের যাবতীয় শারীরবৃত্তীক কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। শরীরে কোনো কারণে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে তা বৃক্কের মাধ্যমে মূত্র হিসেবে বেরিয়ে যায়। আবার কোনো কারণে পানির পরিমাণ কমে গেলে বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। এভাবে দেহে পানির সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে। অসমোরেগুলেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বৃক্ক।
উদ্দীপকের মাহিনের ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা
হলো:
উদ্দীপকের মাহিনের বৃক্ক বা কিডনি বিকল হয়ে গেছে। কিডনি | বিকলের দীর্ঘকালীন সমাধানে রোগীর দেহে ভিন্ন ব্যক্তির সুস্থ ও সঠিক কিডনি প্রতিস্থাপনকে কিডনি সংযোজন বলে। কিডনি বিকলের চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস পদ্ধতি সাময়িক সমাধান হতে পারে। ডায়ালাইসিসে শুধু অর্থ ব্যয় ও শারীরিক কষ্ট নয়, মূল্যবান সময়ের অপচয় দেশ ও জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যয়সাপেক্ষ মনে হলেও দীর্ঘকালীন হিসেবে কিডনি সংযোজন ভালো পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে। স্থায়ীভাবে নষ্ট কিডনির বিকল্প হিসেবে একটি সুস্থ কিডনি সংযোজনই স্থায়ী সমাধান হতে পারে। কিডনি সংযোজন কাজটি দুভাবে করা যায়। যেমন-
১। কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি একজন কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। তবে নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাইবোন, মামা, খালাকে বোঝায়।
২। মৃত ব্যক্তির কিডনি নিয়ে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। মৃত ব্যক্তি বলতে 'ব্রেন ডেড' বোঝায়। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে।
তাই একটি সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করে রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে দেখতে হবে যে টিস্যু ম্যাচ করে কিনা। এক্ষেত্রে পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের কিডনির টিস্যু ম্যাচ হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, কিডনি অকার্যকর হলে কিডনি সংযোজন পদ্ধতির মাধ্যমে সুস্থভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব।
