খাদ্য তৈরি ও সংরক্ষণে ভেজাল মেশানো বাংলাদেশের এক ভয়াবহ সমস্যা। অভিনব কায়দায় অসাধু ব্যক্তিরা খাদ্য তৈরি ও সংরক্ষণে ব্যবহার করছে ফরমালিন, বাণিজ্যিক রং, কীটনাশক ইত্যাদি। এসব ভেজাল খাবার গ্রহণের ফলে প্রতিবছর ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও কিডনী রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আল্ট্রা-ফিলট্রেট: নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিস্রত তরল উৎপন্ন করে। এই তরলকে বলে আল্ট্রাফিলট্রেট।
যখন কারো হৃদযন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বাধাগ্রস্ত হয়, তখন হৃৎপিণ্ডের কোষ কিংবা হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন, করোনারি থ্রোম্বোসিস ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হয়, ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়। এছাড়া রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে, অধিক, তেলযুক্ত খাবার খেলে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করলে, হতাশা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিমর্ষ থাকলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
উদ্দীপকের শেষের অঙ্গাণুটি হল বৃক্ক বা কিডনি। বৃক্কের কার্যগত ও গঠনগত একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র অংকন করা হলো-
পৃথিবীতে, বেঁচে থাকতে হলে আমাদের নির্মল পরিবেশের সাথে সাথে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণও অপরিহার্য। বর্তমানে বাজারে খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ও অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিক দ্রব্য ভেজাল পদার্থ হিসেবে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে মূলত বাণিজ্যিক রং, অ্যান্টিবায়োটিক, কীট ও বালাইনাশক, ফরমালিন, হেভি মেটাল উল্লেখযোগ্য। যেসব মাছ, গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি ইত্যাদিকে অননুমোদিত দ্রব্য দিয়ে তৈরি খাদ্য খাওয়ানো হয় তা মানবশরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাণিজ্যিক রং যা কাপড় কিংবা রঙের কাজে ব্যবহার করা হয় তা বিভিন্ন খাদ্য যেমন- আইসক্রিম, গোলা আইসক্রিম, লজেন্স, বেগুনি, বড়া ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এসব খাবার ধীরে ধীরে যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট করে নানাবিধ রোগের কারণ হয়।
ফরমালিনে ডুবানো মাছ, ফল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে না বলে কয়েকদিন টাটকা দেখা যায়। মাছের ফরমালিন রান্না করা হলেও থেকে যায় এবং মানবদেহে প্রবেশ করে। এই বিষাক্ত পদার্থ নানা জটিল রোগের উপসর্গসহ ক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি করে। মজুদ খাদ্য ও সবজিতে ব্যবহৃত কীটনাশক খাদ্যের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করে মানব স্বাস্থ্যে বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। শিশুদের শরীরের বাড়ন্ত কোষে এগুলোর বিষাক্ততা বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে শিশুরা নানারকম অসুস্থতার ভোগে এবং তাদের মনের বিকাশ ব্যাহত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্ট যে, খাদ্যে ভেজালকারিরা ভেজাল মেশায় যা বিভিন্ন অসুখসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
