নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বৃক্কের ভিতরের গাঢ় কালচে রঙের অংশকে মেডুলা বলে।
মানব বৃক্কে উদ্ভূত ছোট আকারের পাথরজাতীয় পদার্থের সৃষ্টিই বৃক্কের পাথর হিসেবে পরিচিত। বৃক্কে পাথর সবারই হতে পারে। তবে পুরুষের পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, বৃক্কে সংক্রামক রোগ, কম পানি পান, অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ যেমন- মাংস ও ডিম গ্রহণ করলে বৃক্কে পাথর হতে পারে।
উদ্দীপকের অঙ্গাণুটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকের Q অঙ্গটি হলো বৃক্ক। কোনো ব্যক্তির বৃক্ক বিকল হলে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিসুত করা যায়, এছাড়া বিকল হওয়া বৃক্ক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপন করা যায়।
বৃক্ক বিকল হওয়ায় প্রতিদিন ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধনের জন্য ডায়ালাইসিস করতে হয়। এক্ষেত্রে রোগীর এক হাতের দমনির সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের এক প্রান্ত এবং একই হাতের শিরার সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের অপর প্রান্ত সংযুক্ত করে ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে শিরার মধ্য দিয়ে দেহে প্রবেশ করানো হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় এর আংশিক বৈষম্যভেদ্য প্রাচীর কর্তৃক রক্তের ক্ষতিকর ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি গৃহীত হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন ততটা নিখুঁত হয় না। তাছাড়া এটি ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এটি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয় বরং প্রতিদিন এ করে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত পরিশোধনের জন্য তাকে একটানা সময় ক্ষেপণ করে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় অপেক্ষা করতে হয়। অপরদিকে বৃক্ক প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক ফলপ্রসূ কারণ দুটি বৃক্কের পরিবর্তে একটি বৃক্কও যথেষ্ট দক্ষতার সাথে রক্ত পরিশোধনে সক্ষম। যেহেতু প্রতিস্থাপিত বৃক্ক দেহে স্বাভাবিক বৃক্কের কাজ করে তাই রক্ত পরিস্তুতের উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে বৃক্ক প্রতিস্থাপন তুলনামূলক সহজতর।
