রফিক সাহেব কিছুদিন আগে মারাত্মাক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে তার রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা অনেক বেশি।
বৃক্কের নেফ্রনে অবস্থিত গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে যে পরিশ্রুত তরল উৎপন্ন করে তাই হলো আল্ট্রাফিলট্রেট।
বড় গাছে পাতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় দিনের বেলা সেখানে সালোকসংশ্লেষণের হার বেড়ে যায়। ফলে অধিক পরিমাণে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, যা গাছের নিচের পরিবেশকে স্বাভাবিকের তুলনায় শীতল রাখে। তাই দিনের বেলা বড় গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়া আরামদায়ক।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের আক্রান্ত অঙ্গটি হলো বৃক্ক। নিচের বৃক্কের চিত্রসহ গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রতিটি বৃক্কের আকৃতি শিমবিচির মতো এবং রং লালচে হয়। বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভেতরের দিক অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলাসে অবস্থিত গহ্বরকে পেলভিস বলে। পেলভিস থেকে দুইটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। হাইলাসের ভেতর থেকে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে পেলভিস বলে। বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে একধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে।
উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। মেডুলায় সাধারণত ৮-১২টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগ প্রসারিত হয়ে পিড়কা গঠন করে। এসব পিড়কা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়। প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নলিকা দুইটি প্রধান অংশে বিভক্ত, যথা- নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী রফিক সাহেব বৃক্ক বিকল রোগে ভুগছেন। কারণ বৃক্ক বিকল হলে রক্তে ক্রিয়োটিনিন বৃদ্ধি পায়। বৃক্ক অকেজো হলে দু'ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে সমস্যাটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রথম ব্যবস্থাটি হলো ডায়ালাইসিস। বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার প্রক্রিয়া হলো ডায়ালাইসিস। ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। ফলে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ দেহের বাইরে নিষ্কাষিত হয়। দ্বিতীয় ব্যবস্থাটি হলো বৃক্ক প্রতিস্থাপন। কোনো ব্যক্তির বৃক্ক অকেজো হয়ে গেলে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির বৃক্ক তার দেহে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াকে বৃক্ক প্রতিস্থাপন বলে। এটি দু'ভাবে সম্পন্ন করা যায়। যেমন- এক, কোনো নিকট আত্মীয়ের বৃক্ক রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে, দুই, মৃত ব্যক্তির বৃক্ক নিয়ে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে। মৃত ব্যক্তি বলতে “ব্রেন ডেড" বোঝানো হয়েছে তবে দু ক্ষেত্রেই দেখতে হবে টিস্যু ম্যাচ করে কি না। তাই আলোচনা থেকে বলা যায়, রফিক সাহেব ডায়ালাইসিস অথবা বৃক্ক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে উক্ত সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন।
