বৃক্কের হাইলাসে অবস্থিত গহ্বরকে পেলভিস বলে।
অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়, কারণ এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম এবং কিছু হরমোন নিঃসরণ করে। অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন গ্লুকাগন ও ইনসুলিন নিঃসরণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-H হচ্ছে বৃক্ক। নিচে বৃক্কের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো-
একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে। মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত পদার্থ থাকে। এগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে বৃক্কের পেলভিসে পৌঁছায় এবং পেলভিস থেকে ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ বেয়ে ইউরেটারে প্রবেশ করে। ইউরেটার থেকে মূত্র মূত্রথলিতে আসে এবং সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্রথলি মূত্র দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মূত্র ত্যাগের ইচ্ছে জাগে এবং মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রপথে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে বৃক্ক মানবদেহ থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে। বৃক্ক মানবদেহে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়াও মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উদ্দীপকের চিত্র-H হলো মানবদেহের রেচন অঙ্গ বৃক্ক। নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদির কারণে বৃক্ক ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। বৃক্ক বিকলে দু'ধরনের করণীয় দিক রয়েছে। যথা- ডায়ালাইসিস ও বৃক্ক প্রতিস্থাপন।
ডায়ালাইসিস পদ্ধতিতে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এক্ষেত্রে তার এক হাতের ধমনির সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের এক প্রান্ত এবং একই হাতের শিরার সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের অপর প্রান্ত সংযুক্ত করা হয়। তারপর ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে শিরার মধ্য দিয়ে পুনরায় দেহে প্রবেশ করানো হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় এর আংশিক বৈষম্যভেদ্য প্রাচীর কর্তৃক রক্তের ক্ষতিকর ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি গৃহীত হয়। এ প্রক্রিযার মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন ততটা নিখুঁত হয় না। তাছাড়া এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এটি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়।
অপরদিকে বৃক্ক প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক ফলপ্রসূ, কারণ দুটি বৃক্কের পরিবর্তে একটি বৃক্কও যথেষ্ট দক্ষতার সাথে রক্ত পরিশোধনে সক্ষম। তবে বৃক্ক প্রতিস্থাপনের পূর্বে দাতা ও গ্রহীতার টিস্যু ম্যাচ করে কি না তা দেখে নিতে হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বৃক্ক বিকল রোগীর দেহে বৃক্ক সংযোজন বা প্রতিস্থাপন করে তাদের সুস্থ করে তোলা হচ্ছে।
তাই বলা যায়, বৃক্ক বিকল স্থায়ী সমাধান হিসেবে বৃক্ক সংযোজন বা প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতিটি অধিক গ্রহণযোগ্য।
