বৃক্কের গঠন ও কাজের এককই হলো নেফ্রন।
নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি অঙ্গই হলো গ্লোমেরুলাস। গ্লোমেরুলাসের সূক্ষ্ম জালিকা প্রাচীরের ভেতর দিয়ে শুধু অতি ক্ষুদ্র অণু, বর্জ্য পদার্থ ও তরল বের হয়ে বৃক্কীয় নালিকায় যেতে পারে, আর প্রোটিন ও রক্তকণিকাগুলো রক্তের মধ্যেই থেকে যায়। এভাবে গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিদ্রুত তরল উৎপাদন করে।
উদ্দীপকের A চিহ্নিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক। নিচে বৃক্কের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র- দ্বারা মানব রেচনতন্ত্রকে নির্দেশ করা হয়েছে। রেচনতন্ত্র মানবদেহের ক্ষতিকারক নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে এবং পানি সাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। এসকল বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। এসকল বর্জ্য পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ। এ পদার্থগুলো শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত। কোনো কারণে এ বিষাক্ত পদার্থগুলো শরীরে জমতে থাকলে নানা ধরনের অসুখ দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। মূত্রের সঙ্গে নাইট্রোজেনঘটিত বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থগুলো এবং তার সাথে অতিরিক্ত পানি, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও গ্লুকোজ সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে পেলভিসে এবং সেখান থেকে ইউরেটার হয়ে মূত্রথলিতে জমা হয়। মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা হলে মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রের মাধ্যমে মূত্র দেহের বাইরে নির্গত হয়।
অন্যদিকে দেহাভ্যন্তরে কোষকলায় বিদ্যমান পানি ও বিভিন্ন লবণের ভারসাম্য রক্ষা করার বিশেষ পদ্ধতিকে অসমোরেগুলেশন বা পানি সাম্যতা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বলে। রেচন প্রক্রিয়ায় বৃক্কের মাধ্যমে দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়ে দেহে পানির সমতা রক্ষিত হয়।
এভাবে, উদ্দীপকের চিত্র- অর্থাৎ রেচনতন্ত্র মূত্রত্যাগের মাধ্যমে দেহের ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ নিঃসরণ ও অসমোরেগুলেশন প্রক্রিয়া মাধ্যমে পানির সাম্যতা নিয়ন্ত্রণ করে।
