স্নায়ুকোষ নিঃসৃত একপ্রকার নির্যাসকে ডোপামিন বলে।
শরীরের কোনো অংশের মাংশপেশির কার্যাবলি বা নাড়াতে পারার যে ক্ষমতা তা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে। সাধারণত মস্তিষ্কের স্ট্রোক হলো প্যারালাইসিসের প্রধান কারণ। মেরুদণ্ড বা ঘাড়ের সুষুম্নাদণ্ডে আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণেও প্যারালাইসিস হতে পারে। এছাড়া স্নায়ুরোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও এ রোগের কারণ হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত A অঙ্গটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকা দুটি অংশে বিভক্ত যথা নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা। অর্থাৎ B দ্বারা নেফ্রনকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে নেফ্রনের সার্বিক বর্ণনা দেওয়া হলো-
মানবদেহে প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। প্রতিটি নেফ্রন একটি রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ এবং রেনাল টিউব্যুল নিয়ে গঠিত। প্রতিটি রেনাল করপাসল আবার গ্লোমেরুলাস এবং বোম্যান্স ক্যাপসুল এ দুটি অংশে বিভক্ত। বোম্যান্স ক্যাপসুল গ্লোমেরুলাসকে বেষ্টন করে থাকে। বোম্যান্স ক্যাপসুল দ্বিস্তর বিশিষ্ট পেয়ালার মতো প্রসারিত একটি অংশ। গ্লোমেরুলাস একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট অ্যার্টারিওল ক্যাপসুলের ভিতরে ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিকনালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। এসব জালিকার কৈশিকনালিগুলো মিলিত হয়ে অ্যাফারেন্ট অ্যার্টারিওল সৃষ্টি করে এবং ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিসুত তরল উৎপন্ন করে। বোম্যান্স ক্যাপসুলের অঙ্কীয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালি পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিকাটিকে রেনাল টিউব্যুল বলে। দুই বৃক্কে মোট ২০ লক্ষ রেনাল টিউব্যুল থাকে। প্রতিটি রেনাল টিউব্যুল ৩টি অংশে বিভক্ত, যথা: গোড়াদেশীয় প্যাঁচানো নালিকা, হেনলির লুপ, প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা।
উদ্দীপকের উল্লিখিত A হলো বৃক্ক। বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে বা বিকল হলে এর প্রতিকার ব্যবস্থা হিসেবে নিচের দুটি পদ্ধতির মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণ করে সমস্যাটি সমাধান করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি। পদ্ধতি দুটি হলো-
ডায়ালাইসিস : বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনটির ডায়ালাইসি টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে ও অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে টিউবের মধ্য দিয়ে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
প্রতিস্থাপন : যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায় তখন তাকে কিডনি সংযোজন বলে। কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়- কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি একজন কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে এটি করা যায়। তবে নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাইবোন, মামা, খালাকে বুঝায়। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন কিডনি বিকল বা অকেজো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভম্বপর হতে পারে। মানুষের সব সময় একটি কিডনি কার্যকর থাকে। তাই একটি সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করে রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে দেখতে হবে যে টিস্যু ম্যাচ করে কি-না। পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের কিডনির টিস্যু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তাই বলা যায়, বৃক্ক বিকল বা অকেজো হলে উল্লিখিত ডায়ালাইসিস অথবা বৃক্ক প্রতিস্থাপন পদক্ষেপের যেকোনো একটি গ্রহণ করা যায়।
