নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মূলত প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি এক প্রকার মোম জাতীয় পদার্থই হচ্ছে কোলেস্টেরল।
চিকিৎসকের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের রক্তচাপ যখন ১২০/৮০ মিলিমিটার মানের কাছাকাছি হয় তখন তাকে বলা হয় আদর্শ রক্তচাপ। আদর্শ রক্তচাপে সিস্টোলিক চাপের মান ১২০ বা এর সামান্য নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপের মান ৮০ বা এর কিছুটা নিচে হয়ে থাকে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পরিণত বয়সে একজন মানুষের রক্তচাপ আদর্শ মানের বা এর কাছাকাছি থাকা উচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P সৃষ্ট রোগটি হলো শ্বসনজনিত ব্রংকাইটিস রোগ। নিচে এ রোগের কারণ ও লক্ষণ বিশ্লেষণ করা হলো-
কারণ: শ্বাসনালির ভেতরে আবৃত ঝিল্লিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে ব্রংকাইটিস বলে। এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ঝিল্লিগাত্রে প্রদাহের সৃষ্টি করে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্যাঁতসেঁতে ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা ও ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে। একবার ব্রংকাইটিস হলে বারবার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
রোগের লক্ষণ :
i. কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হয়।
ii. কাশির সময় রোগী বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে।
iii. জ্বর হয়, রোগী ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
iv. শক্ত খাবার খেতে পারে না।
V. কাশির সাথে অনেক সময় সাদা কফ বের হয়।
উদ্দীপকে Q চিহ্নিত অংশটি হলো ফুসফুস। ফুসফুসের মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-শ্বাস গ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডলের O₂ নাসারন্দ্রের মাধ্যমে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে পৌঁছায়। অ্যালভিওলাস ও রক্তের চাপের পার্থক্যের জন্য O₂ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে। ফুসফুস থেকে ধমনির রক্তে O₂ প্রবেশ করার পর রক্তে অক্সিজেন দুভাবে পরিবাহিত হয়। সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে পরিবাহিত হয়। বেশির ভাগ অক্সিজেনই হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে মিলিত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। এই অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে O₂ সহজে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন → অক্সিহিমোগ্লোবিন (অস্থায়ী যৌগ)
অক্সিহিমোগ্লোবিন → মুক্ত অক্সিজেন + হিমোগ্লোবিন
রক্ত কৈশিকনালিতে পৌঁছার পর O₂ পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ, পরে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। অবশেষে লসিকা থেকে কোষ আবরণ ভেদ করে কোষে পৌঁছে। অন্যদিকে খাদ্য জারণ বিক্রিয়া কোষে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে। এই কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল ও লসিকাতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রধানত সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট (KHCO3) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
তাই বলা যায়, এভাবে ফুসফুসের মাধ্যমে O₂ ও CO₂ গ্যাসের বিনিময় ঘটে।
