নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো-
তরুণাস্থি হলো এক ধরনের নমনীয়, স্থিতিস্থাপক যোজক টিস্যু যা কন্ড্রোসাইট কোষ এবং ঘন ম্যাট্রিক্স দ্বারা গঠিত।
টিস্যু হলো একই উৎস থেকে তৈরি কোষসমষ্টি, যারা মিলিতভাবে নির্দিষ্ট কাজ করে। এটি দেহের গঠন তৈরি করে, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অংশকে আচ্ছাদন ও সুরক্ষা দেয়, রক্তের মাধ্যমে খাদ্য, অক্সিজেন ও বর্জ্য পদার্থ পরিবহণ করে। স্নায়ু টিস্যু দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে এবং পেশি টিস্যু চলন ও সঞ্চালনে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের A টিস্যু হলো পেশি টিস্যু, যার প্রধান কাজ চলন, সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দন বজায় রাখা। পেশি টিস্যু তিন প্রকার। যথা-ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি এবং হৃদপেশি। নিচে পেশি টিস্যুর গাঠনিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
১. ঐচ্ছিক পেশি: ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কালের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই পেশিগুলো লম্বাটে ও নলাকার এবং এদের কোষে আড়াআড়ি ডোরা থাকে। প্রতিটি কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
২. অনৈচ্ছিক পেশি: অনৈচ্ছিক পেশি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন রক্তনালি ও খাদ্যনালির প্রাচীর গঠন করে। এই পেশির কোষগুলো মাকু-আকৃতির এবং এদের কোষে কোনো আড়াআড়ি দাগ থাকে না। প্রতিটি কোষে কেন্দ্রে একটি করে নিউক্লিয়াস থাকে।
৩. হৃদপেশি: হৃদপেশির অবস্থান শুধুমাত্র হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে। এই পেশিগুলো শাখা-প্রশাখাযুক্ত, এবং এদের কোষেও ডোরা দেখা যায়। প্রতিটি কোষে কেন্দ্রে সাধারণত একটি নিউক্লিয়াস থাকে এবং কোষগুলোর সংযোগস্থলে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক থাকে।
উদ্দীপকের A টিস্যু হলো পেশি টিস্যু এবং B টিস্যু হলো স্নায়ু টিস্যু। এই দুটি টিস্যু একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং প্রাণীর জীবসত্তা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
স্নায়ু টিস্যু দ্রুত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা গ্রহণ করে সংকেত তৈরি করে এবং দেহের বিভিন্ন অংশে তা পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রিত থাকে। মস্তিষ্ক ও সুষুন্নাকাণ্ড দেহের প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে, পেশি টিস্যু স্নায়ুর নির্দেশ অনুযায়ী সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। ঐচ্ছিক পেশি দেহের চলন, কাজকর্ম ও আত্মরক্ষা নিশ্চিত করে। অনৈচ্ছিক পেশি পরিপাকনালির পেরিস্ট্যালসিস ও অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া, হৃদপেশি ছন্দোময়ভাবে সংকুচিত হয়ে রক্তসংবহন সচল রাখে।
তাই বলা যায়, স্নায়ু টিস্যুর সংকেত ও পেশি টিস্যুর প্রতিক্রিয়ার সমন্বিত কার্যক্রমই প্রাণীর জীবসত্তা টিকিয়ে রাখার প্রধান ভিত্তি।
