হৃদস্পন্দন: হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে বলা হয় সিস্টোল এবং প্রসারণকে বলা হয় ডায়াস্টোল। হৃৎপিণ্ডের একবার সিস্টোল-ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃদস্পন্দন বলে।
যেসব টিস্যুতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম তাদেরকে যোজক টিস্যু বলা হয়। রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা বা টিস্যু। এ টিস্যুর মাতৃকা তরল, দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন, রোগ প্রতিরোধ ও রক্ত জমাট বাঁধায় অংশগ্রহণ করে বলে এদেরকে যোজক কলা বা টিস্যু বলা হয়।
উদ্দীপকের উপাদানগুলো দ্বারা রক্তকে বোঝানো হয়েছে। হৃর্ণপন্ডের স্পন্দনের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন করে থাকে। নিচে হৃদপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত স্পন্দন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো:
অলিন্দদ্বয় প্রসারিত হলে দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। যেমন- ঊর্ধ্ব মহাশিরার কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময় ফুসফুসীয় বা পালমোনারী শিরার মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। অলিন্দদ্বয়ের সংকোচনের ফলে নিলয়দ্বয়ের পেশি প্রসারিত হয়। ফলে ডান অলিন্দ-নিলয়ের ছিদ্রপথের ট্রাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং ডান অলিন্দ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্তরক্ত ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময় বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের বাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এর পরপরই ছিদ্রগুলো কপাটিকা দ্বারা বন্ধ হয়ে যায়।
যখন নিলয়দ্বয় সংকুচিত হয় তখন ডান নিলয় থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এখানে রক্ত পরিশোধিত হয়। ঠিক একই সময়ে বাম নিলয় থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারা দেহে পরিবাহিত' হয় এবং উভয় ধমনির অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্ত পুনরায় নিলয়ে ফিরে আসতে পারে না। এভাবে হৃৎপিণ্ডে পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
উদ্দীপকের (i) নং গ্রুপ হচ্ছে ব্লাড গ্রুপ A এবং (ii) নং গ্রুপ হচ্ছে ব্লাড গ্রুপ B।
মানুষের রক্তের লোহিত রক্ত কণিকায় A ও B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন থাকে এবং রক্তরসে a ও ৮ দুই ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে। এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয়। যেমন:
ব্লাড গ্রুপ A : এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও ৮ অ্যান্টিবডি থাকে।
ব্লাড গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও a অ্যান্টিবডি থাকে।
ব্লাড গ্রুপ AB: এ শ্রেণির রক্তে A ও B উভয় ধরনের অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না।
ব্লাড গ্রুপ ০: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b উভয় অ্যান্টিবডি থাকে।
অর্থাৎ গ্রুপ A, বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি গ্রুপ B বিশিষ্ট রোগীকে রক্তদান করেন, তাহলে দাতার লোহিত কণিকার অ্যান্টিজেন গ্রহীতার রক্তরসে উপস্থিত অ্যান্টিবডির সংস্পর্শে আসবে। যেহেতু একই ধরনের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরস্পর বিক্রিয়া করতে সক্ষম সেহেতু রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সমস্যার কারণে রোগীর (অর্থাৎ গ্রহীতা) মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
