ইদানীং রফিক সাহেবের ভালো ঘুম হয় না এবং অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, ঘাড়ে ব্যথা হয় ও বুক ধড়ফড় করে। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসক তাকে ওজন কমানো, চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া এবং নিয়মিত ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেন।
স্ট্রেপটোকক্কাস অণুজীবের সংক্রমণে সৃষ্ট শ্বাসনালির প্রদাহই হলো বাতজ্বর।
আঘাত, দুর্ঘটনা, শল্যচিকিৎসা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে অত্যধিক রক্তক্ষরণ হলে রোগীর দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে এই রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য রোগীর দেহে অন্য ব্যক্তির রক্ত দিতে হয়। এক্ষেত্রে রোগী এবং দাতার রক্তের গ্রুপ ও প্রকৃতি না জানা থাকলে রক্তকণিকা জমাট বাঁধা, বিশ্লিষ্ট হওয়া, জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব ও প্রস্রাবের সাথে হিমোগ্লোবিন নির্গত হওয়া ইত্যাদি নানা জটিলতায় রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই রক্তের গ্রুপ জানা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটি হলো চর্বিজাতীয় খাদ্য। ক্ষুদ্রান্ত্র চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাকে মুখ্য ভূমিকা রাখে। নিচে চর্বিজাতীয় খাদ্যের পরিপাক ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো- ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাকের ক্ষেত্রে পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে। এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে। এই পাচকরসের এনজাইম দ্বারা স্নেহপদার্থের পরিপাক শুরু হয়। এক্ষেত্রে যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। পিত্তলবণ চর্বি বা স্নেহ পদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে, পানির সাথে মিশতে সাহায্য করে। এ লবণের সংস্পর্শে চর্বিজাতীয় পদার্থ সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত হয়। চর্বি বিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
এভাবেই চর্বিজাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'রফিক সাহেবের' লক্ষণগুলো থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। রফিক সাহেবের উল্লিখিত সমস্যাগুলোর কারণ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপের কারণ ও প্রতিকার নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
কারণ:
১. বাবা বা মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সন্তানদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
২. স্নায়বিক চাপ এবং ধূমপানের অভ্যাস থাকলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
৩. দেহের ওজন অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে কিংবা খাবারে লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।
৪. পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের পূর্ব ইতিহাস থাকলে উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
প্রতিকার:
১. সব সময় হাসি খুশি থাকতে হবে, কখনও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া যাবে না।
২. ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. দেহের ওজন কমাতে ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
৪. চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. খাবারে অতিরিক্ত লবণ এবং কাঁচা লবণ খাওয়া সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।
৬. টাটকা ফল ও শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
৭. রোগাক্রান্ত হলে নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করতে হবে।
