পঞ্চাশোর্ধ হাফিজ সাহেব অসুস্থ বোধ করার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। ডাক্তার সাহেব উনার পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। পরীক্ষার রিপোর্ট নিম্নরূপ।
কোষস্থ পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণের সমন্বিত রূপকে কোষরস বলে।
রক্তগ্রহণ ও প্রদানে Rh ফ্যাক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Rh- ব্লাড গ্রুপ বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে যদি Rh+ রক্ত প্রদান করা হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির দেহে Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। স্বাভাবিকভাবে কোনো মানুষের দেহে Rh অ্যান্টিবডি থাকবে না। তাই প্রথমবার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কিন্তু একই ব্যক্তি যদি পরবর্তীকালে পুনরায় Rh+ দাতার রক্ত গ্রহণ করে তার দেহে দাতা থেকে প্রাপ্ত রক্ত কণিকাগুলো জমাট বেঁধে যাবে। কারণ প্রথম রক্ত গ্রহণের ফলে গ্রহীতার দেহে Rh অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়েছিল এতে রক্ত গ্রহীতার মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই Rh- ব্যক্তিকে Rh+ রক্ত প্রদান করা উচিত নয়।
উদ্দীপকের BP এর রিপোর্ট হাফিজ সাহেবের উচ্চ রক্তচাপ রোগ হয়েছে বলে নির্দেশ করেছে। নিচে এ রোগের কারণ ও প্রতিকার ব্যাখ্যা করা হলো-
উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকির কারণ : বাবা বা মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তার সন্তানদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও যারা স্নায়বিক চাপে (Tension) বেশি ভোগেন অথবা ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। দেহের ওজন বেশি বেড়ে গেলে কিংবা লবণ এবং চর্বিযুক্ত খাদ্য বেশি খেলে এমনকি পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের পূর্ব ইতিহাস থাকলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। সন্তান প্রসবের সময় খিঁচুনি রোগের (Eclampsia) কারণে মায়ের রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের প্রতিকার : উচ্চ রক্তচাপের প্রতিকারে টাটকা ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে শারীরিক পরিশ্রম করা বা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ছাড়াও খাবারের সময় অতিরিক্ত লবণ (কাঁচা লবণ) খাওয়া উচিত নয়। ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে, যা স্ট্রোক নামে পরিচিত। কর্মতৎপরতা, স্বাস্থ্য, বয়স এবং রোগের কারণে মানুষের রক্তচাপের মাত্রা কমবেশি হতে পারে। মোটা লোকদের ওজন কমানো, চর্বিজাতীয় খাদ্য কম খাওয়া, খাবারে কম লবণ দেওয়া ইত্যাদি নিয়ম মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটা এড়ানো যায়। রক্তচাপ খুব বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবন করা উচিত।
উদ্দীপকের HDL ও LDL এর রিপোর্ট অনুযায়ী হাফিজ সাহেব হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মানুষের রক্তে প্রাপ্ত তিন ধরনের কোলেস্টেরলের মধ্যে HDL কে ভালো কোলেস্টেরল এবং LDL কে খারাপ কোলেস্টরল বলা হয়। মানুষের রক্তে HDL এর আদর্শ মান হলো > 1.5 ml এবং LDL < 1.8 ml। কিন্তু উদ্দীপকে হাফিজ সাহেবের রক্তে HDL হলো 1.2 ml এবং LDL হলো 3.8 ml। অর্থাৎ তার রক্তে HDL আদর্শ মানের থেকে অনেক কম এবং LDL অনেক বেশি পরিমাণে আছে। এক্ষেত্রে তার হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হয়ে ধমনিতে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা আছে। এতে তার হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত O₂ ও খাদ্যসার না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে বুকে ব্যথা অনুগত হতে পারে। অর্থাৎ তার অ্যানজিনা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ধমনির গায়ে বেশি চর্বি জমা হয়ে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে করোনারি হৃদরোগের আশঙ্কা অনেক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
তাই আলোচনা থেকে বলা যায়, হাফিজ সাহেব অ্যানজিনা এবং করোনারি হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
