মানব দেহের দুই ফুসফুসের মাঝখানে একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ আছে যার মাধ্যমে সারা দেহে এক ধরনের তরল পদার্থ পরিবাহিত হয়।
রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে।
ধমনি ও শিরার মধ্যে দুটি পার্থক্য-
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানবদেহের দুই ফুসফুসের মাঝখানে ত্রিকোনাকার, ফাঁপা অঙ্গ বলতে হৃৎপিণ্ডকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে হৃৎপিণ্ডের লম্বচ্ছদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত তরল পদার্থটি হলো রক্ত। এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত মানবদেহে যে ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. অক্সিজেন পরিবহণ : লোহিত রক্তকণিকা অক্সিহিমোগ্লোবিনরূপে কোষে অক্সিজেন পরিবহণ করে।
২. কার্বন ডাইঅক্সাইড অপসারণ : রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে কোষগুলোতে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়, রক্তরস সোডিয়াম বাই কার্বনেটরূপে তা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এবং নিঃশ্বাস বায়ুর সাথে ফুসফুসের সাহায্যে দেহের বাইরে বের করে দেয়।
৩. খাদ্যসার পরিবহণ : রক্তরস গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, চর্বিকণা ইত্যাদি কোষে সরবরাহ করে।
৪. তাপের সমতা রক্ষা : দেহের মধ্যে অনবরত দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন মাত্রার তাপ সৃষ্টি হয় এবং তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে দেহের সর্বত্র তাপের সমতা রক্ষা হয়।
৫. বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন : রক্ত দেহের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বহন করে এবং বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে যেসব ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড হিসেবে নিষ্কাশন করে।
৬. হরমোন পরিবহণ : হরমোন নালিবিহীন গ্রন্থিতে তৈরি এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ বা রস। এই রস সরাসরি রক্তে মিশে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয় এবং বিভিন্ন জৈবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. রোগ প্রতিরোধ : কয়েক প্রকারের শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অ্যান্ডিবডি ও অ্যান্টিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে রক্ত দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৮.রক্ত জমাট বাঁধা : দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং দেহের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
পরিশেষে বলা যায়, রক্ত উপরিউক্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডগুলো যথাযথভাবে সম্পাদনের ফলেই মানবদেহ সুস্থ থাকে।
