মানব দেহের বক্ষ গহ্বরের বাম পার্শ্বে ত্রিকোণাকার অঙ্গের সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে সারাদেহে গোলাকার, রড আকৃতির কণিকা পরিবাহিত হয়। যেটি রক্তপাত বন্ধে সাহায্য করে।
একই বায়ু চাপে কোনো একটি দ্রবণ ও দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যই হলো ব্যাপন চাপ ঘাটতি।
উদ্ভিদদেহে খাদ্য চলাচলের প্রধান কাজটি ফ্লোয়েমের সিভনল করে থাকে। সিভনল লম্বালম্বিভাবে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদদেহে জারের মতো গঠন সৃষ্টি করে। দুটো কোষের মধ্যবর্তী অণুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে বিলুপ্ত হয়ে চালুনির মতো আকার ধারণ করে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। শীতকালে এ রন্দ্রগুলোতে ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে রন্ধ্র ছোট হয়। তাই শীতকালে উদ্ভিদদেহে খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
উদ্দীপক অনুসারে মানবদেহে বর্ণিত কণিকাটি হলো অণুচক্রিকা। এই বিশেষ কণিকাটির প্রধান কাজই হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা। দেহের কোনো জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায় বা অন্য কোনো কারণে রক্তপাত শুরু হয় তখন রক্তের অণুচক্রিকা দ্রুত থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রোম্বিনকে থ্রোম্বিনে পরিণত করে। থ্রোম্বিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন-ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাঁধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে। রক্ত কনিকায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধবে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত অঙ্গটি হলো মানবদেহের হৃৎপিণ্ড। নিচে হৃৎপিণ্ড দিয়ে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো-
হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের ন্যায় কাজ করে। এটি চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। যথা- বাম অলিন্দ, ডান অলিন্দ, বাম নিলয় ও ডান নিলয়। এদের মধ্যে অলিন্দদ্বয় প্রসারিত হলে দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। যেমন- ঊর্ধ্ব মহাশিরার মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময়ে ফুসফুসীয় বা পালমোনারি শিরার মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। অলিন্দদ্বয়ের সংকোচনের ফলে নিলয়দ্বয়ের পেশি প্রসারিত হয়। ফলে ডান অলিন্দ-নিলয়ের ছিদ্রপথে ট্রাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং ডান অলিন্দ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময় বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের বাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এর পরপরই ছিদ্রগুলো কপাটিকা দ্বারা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিলয় থেকে রক্ত পুনরায় অলিন্দে প্রবেশ করতে পারে না। যখন নিলয়দ্বয় সংকুচিত হয় তখন ডান নিলয় থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময়ে বাম নিলয় থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারাদেহে রক্ত পরিবাহিত হয় এবং উভয় ধমনির অর্ধচন্দ্রাকৃতি কপাটিকাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্ত পুনরায় নিলয়ে ফিরে আসতে পারে না। এভাবে হৃৎপিণ্ডে পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত প্রবাহ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
