নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
পেলভিস: বৃক্কের ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশই হলো পেলভিস।
শহরের পরিবেশে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ার কারণে ফুসফুসের রোগ বেশি হয়। শহরের বাতাস ধূলাবালি, বিভিন্ন ভাসমান কণা, ধোঁয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থে পরিপূর্ণ থাকে। যা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে ক্ষতিসাধ্য করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' চিত্রটি হলো হৃৎপিণ্ড। নিম্নে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-হৃৎপিণ্ড-প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে। যথা- বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম, মধ্যন্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং অন্তঃস্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম।
বহিস্তর: এটি মূলত যোজক কলা নিয়ে গঠিত। এই স্তরটিতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে এবং এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত।
মধ্যস্তর: এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে এ স্তর গঠিত।
অন্তঃন্তর: এটি সবচেয়ে ভিতরের স্তর। হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত। এই স্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে। হৃৎপিণ্ডের ভিতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি নিচের দুটির চেয়ে আকারে ছোট। উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান এবং বাম অলিন্দ বলে এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে ডান এবং বাম নিলয় বলে। অলিন্দ দুটির প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, আর নিলয়ের প্রাচীর পুরু। অলিন্দ এবং নিলয় যথাক্রমে আন্তঃঅলিন্দ পর্দা এবং আন্তঃনিলয় পর্দা দিয়ে পরস্পর পৃথক থাকে।
হৃৎপিণ্ডের উভয় অলিন্দ এবং নিলয়ের মাঝে যে ছিদ্রপথ আছে, তা খোলা বা বন্ধ করার জন্য ভালভ বা কপাটিকা থাকে। ডান অলিন্দ এবং ডান নিলয়ের মধ্যবর্তী ছিদ্রপথ তিন পাল্লাবিশিষ্ট ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে সুরক্ষিত। একইভাবে বাম অলিন্দ এবং বাম নিলয় দুই পাল্লাবিশিষ্ট বাইকাসপিড ভালভ (মাইট্রাল ভালভ নামেও পরিচিত) দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। মহাধমনি ও ফুসফুসীয় ধমনির মুখে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা থাকে। এদের অবস্থানের ফলে পাম্প করা রক্ত একই দিকে চলে এবং এক ফোঁটা রক্তও উল্টো দিকে ফিরে আসতে পারে না।
Note: হৃৎপিণ্ডের চিত্রটি বোঝার সুবিধার্থে রাখা হয়েছে। প্রশ্নে চিত্র চাওয়া না হলে সেটা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই।
উদ্দীপকের উল্লিখিত Y হলো রক্তকণিকা। মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। কণিকাগুলো একই সাথে অবস্থান করলেও এদের গঠন ও. কাজের দিক দিয়ে ভিন্ন। নিম্নে মতামত দেওয়া হলো-
গঠন: মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না এবং দেখতে অনেকটা দ্বি-অবতল বৃত্তের মতো। শ্বেত রক্তকণিকার নির্দিষ্ট - কোন আকার নেই। হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। অণুচক্রিকা গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা বড় আকারের হতে পারে। এদের সাইটোপ্লাজমে কোষ, অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না।
কাজ:
১. লোহিত রক্তকণিকা:
- O₂ ও CO₂ পরিবহন করে।
- অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে।
২. শ্বেত রক্তকণিকা:
- নিউট্রোফিল ও মনোসাইট শ্বেতরক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে ধ্বংস করে।
- ইওসিনোফিল হিস্টামিন ক্ষারণ করে অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- বেসোফিল হিস্টামিন ক্ষরণ করে অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. অণুচক্রিকা:
- দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং দেহের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, রক্তকণিকাগুলো একই সাথে অবস্থান করলেও গঠন ও কাজের দিক দিয়ে ভিন্ন।
