চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে।
বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের (যেমন: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, সালফার প্রভৃতি) অভাবে উদ্ভিদের পাতা সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ক্লোরোসিস। কেননা, এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডে 'X' গ্রুপের খাদ্যগুলো হলো- মাছ, মাংস এবং ডিম যা মূলত আমিষ জাতীয় খাদ্য। নিচে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ব্যাখ্যা করা হলো:
মুখগহ্বরে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাককারী এনজাইমের অভাবে তাতে খাদ্যের কোনরূপ পরিবর্তন না হলেও এ অংশে খাদ্যবস্তুটি চূর্ণ বিচূর্ণ হয় ও তা অন্ননালির মাধ্যমে পাকস্থলীতে পৌছে। পাকস্থলীতে খাদ্য আসার পর অন্তঃপ্রাচীরের গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। এই রসে HCI ও পেপসিন থাকে। হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের মধ্যে কোনো অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা মেরে ফেলে, নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে এবং পাকস্থলীতে পেপসিনের সুষ্ঠু কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে। এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে। এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে। পাচকরসের এনজাইম দিয়ে আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে। আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইড়ে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডটি যথার্থ না। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ, আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয়, তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। এই পিরামিডের সবচেয়ে উপরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য আর সবচেয়ে নিচে রয়েছে শর্করা।
পিরামিডের অংশগুলো তার আকার অনুযায়ী নিচের দিকে চওড়া এবং উপরের দিকে সরু। সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি এসব। এগুলো বেশি করে খেতে হবে। তার পরের অংশে আছে শাক-সবজি এবং ফলমূল। এসব ভাত, রুটির চেয়ে কম খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পনির, ছানা, দই আরও কম পরিমাণে খেতে হবে। তেল, চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে কম খাওয়া উচিত।
কিন্তু উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডে ভিটামিন ও খনিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবার সবার নিচে আছে যা দ্বিতীয় স্তরে থাকার কথা এবং ভাত, রুটি, চিনি আছে দ্বিতীয় স্তরে যা সবার নিচে অর্থাৎ ১ম স্তরে থাকার কথা।
