(ⅰ) মাছ, মাংস, মধু, ডাল, চর্বি, বাদাম, শিমের বিচি, ডিমের কুসুম, আলু, সবুজ শাকসবজি।
(ii) টায়ালিন, পেপসিন, লাইপেজ, ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ।
ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত রক্তজারক সমৃদ্ধ আঙুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশই হলো ভিলাস।
যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। যকৃৎ চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে গঠিত। যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে। পিত্তরসের মধ্যে পানি, পিওলবণ, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ প্রধান। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
(i) নং তালিকার খাবারগুলো হলো- মাছ, মাংস, মধু, ডাল, চর্বি, বাদাম, শিমের বিচি, ডিমের কুসুম, আলু, সবুজ শাকসবজি। এগুলোকে খাদ্যপিরামিডে অন্তর্ভুক্ত করে এর যৌক্তিক কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাক-সবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। এই পিরামিডের সবচেয়ে উপরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য আর সবচেয়ে নিচে রয়েছে শর্করা।
পিরামিডের আকার অনুযায়ী নিচের দিকে চওড়া এবং উপরের দিকে সরু সবচেয়ে চওড়া অর্থাৎ নিচের অংশে রয়েছে মধু ও আলু বা শর্করা গ্রুপ। শর্করা আমাদের দেহে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। এজন্য অধিক পরিমাণে শর্করা আমাদের দেহে প্রয়োজন। তাই সবচেয়ে চওড়া অংশে শর্করা রাখা হয়েছে। শর্করার পরের অংশে আছে শাক-সবজি এবং ফলমূল। শাক-সবজি, বাদাম, শিমের বিচি, এসব মধু, আলু অর্থাৎ শর্করার তুলনায় কম খেতে হবে। মাছ, মাংস ও ডাল অর্থাৎ আমিষ গ্রুপ, ভিটামিন ও খনিজ গ্রুপের পরের অংশে অবস্থিত। আমিষ গ্রুপের খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডাল। পিরামিডে অবস্থিত ভিটামিন ও খনিজ গ্রুপ থেকে কম খেতে হবে। সবচেয়ে কম খেতে হবে স্নেহজাতীয় গ্রুপের খাদ্য। উদ্দীপক অনুসারে চর্বি ও ডিমের কুসুম স্নেহ জাতীয় গ্রুপের হওয়ায় এদের পিরামিডের শীর্ষে রাখা হয়েছে।
এভাবে খাদ্যের পুষ্টি ও দেহের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিবেচনা করে খাদ্য পিরামিড সাজানো হয়েছে।
(i) নং তালিকার খাবারগুলো হলো মাছ, মাংস, মধু, ডাল, চর্বি, বাদাম, শিমের বিচি, ডিমের কুসুম আলু, সবুজ শাকসবজি। এখানে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ এ তিন জাতীয় খাবারই রয়েছে।
(ii) নং তালিকায় রয়েছে টায়ালিন, পেপসিন, লাইপেজ, ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ইত্যাদি- এগুলো হলো খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম। এনজাইম খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। এতে খাদ্যের জটিল উপাদানগুলো ভেঙে দেহের গ্রহণযোগ্য সরল উপাদানে পরিণত হয়।
শর্করা, আমিষ, স্নেহ এই ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান পরিপাকে ভিন্ন ভিন্ন ধনের এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিপাককারী এনজাইম ছাড়া খাদ্য পরিপাক হবে না, হলেও অনেক ধীরে হবে যা দেহের কাজে লাগানোর উপযোগী থাকবে না।
(ii) নং তালিকার টায়ালিন এনজাইম মধু ও আলুর শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে। আবার অ্যামাইলেজ এনজাইম এই শ্বেতসারকে পরবর্তীতে সরল শর্করায় (গ্লুকোজ) পরিণত করে।
মাছ, মাংস, ডাল জাতীয় খাবারের আমিষকে পেপসিন এনজাইম ভেঙে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। এই পলিপেপটাইডকে ট্রিপসিন এনজাইম ভেঙে অ্যামাইনো এসিড ও সরল পেপটাইতে পরিণত করে। আবার লাইপেজ এনজাইম চর্বি, বাদাম, ডিমের কুসুমের স্নেহ জাতীয় পদার্থকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
এনজাইমের সহায়তায় (i) নং তালিকার খাবারগুলো উল্লিখিত সকল সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের দেহের গ্রহণ উপযোগী হয়। তাই এনজাইমসমূহ খাদ্য পরিপাকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
