বিএমআই (BMI) হলো Body Mass Index যা মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
পানি ব্যতীত দেহাভ্যন্তরে কোনো রাসায়নিক ক্রিয়া চলতে পারে না। দেহে পানি দ্রাবকরূপে কাজ করে। পানির জন্যই দেহে রক্ত সঞ্চালন সম্ভব। রক্তে পরিবাহিত খাদ্য উপাদান এবং অক্সিজেন পানির মাধ্যমে দেহকোষে পৌঁছাতে পারে। দেহের সকল প্রকার রসে খনিজ লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। পানি দেহের দূষিত পদার্থ অপসারণে সহায়তা করে। দেহে পানির ঘাটতি হলে দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য নিয়ন্ত্রণ ও দূষিত পদার্থ নির্গমন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। তাই পানির অপর নাম জীবন।
যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। একজন কিশোর বা কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষ বা মহিলার সুষম খাদ্যতালিকা লক্ষ করলে দেখা যায়, তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয়, তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। আদর্শ পিরামিডের সবচেয়ে নিচে চওড়া অংশে শর্করা জাতীয় খাবার থাকে, এগুলো বেশি করে খেতে হবে। তার উপরের অংশে আছে ভিটামিন ও খনিজ গ্রুপ। এসব খাবার শর্করার চেয়ে কম খেতে হবে। আমিষ জাতীয় খাবার আর কম পরিমাণে খেতে হবে। তেল, চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে কম খাওয়া উচিত। আমাদের প্রতিদিনের খাবার এই খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী বেছে নিতে হবে, তবেই আমরা সহজে সুষম খাদ্য নির্বাচন করতে পারব।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখানো খাদ্য পিরামিডের সবচেয়ে উপরে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য থাকলেও সবচেয়ে নিচে রয়েছে আমিষ। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে শর্করা যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
তাই, সুষম খাদ্যাভাসের কথা চিন্তা করে আদর্শ পিরামিড সাজানোর ক্ষেত্রে উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডটি যথার্থ নয়।
উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডটি যথার্থ নয়। উদ্দীপকের আলাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
শর্করা জাতীয় খাবারকে নিচের স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে।
এখানে উদ্দীপক অনুসারে শর্করা জাতীয় খাবারগুলোকে নিচের স্তরে না রেখে শাকসবজি জাতীয় খাবারগুলো নিজের স্তরে রাখা হয়েছে যার ফলে এটি একটি আদর্শ খাদ্য পিরামিড হয়নি। আদর্শ খাদ্য পিরামিডের অংশগুলো তার আকার অনুযায়ী নিচের দিকে বড় এবং উপরের দিকে ছোট অর্থাৎ আদর্শ খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশি শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এরপর শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস আরও কম এবং চর্বি জাতীয় খাদ্য সবচেয়ে কম গ্রহণ করতে হবে। আদর্শ খাদ্য পিরামিড অনুসারে উদ্দীপকের পিরামিডটিকে সাজালে প্রদশিত পিরামিডের ন্যায় নিম্নরূপ হবে।
