দাঁতের মুকুট অংশে ডেন্টিনের উপরিভাগে যে কঠিন উপাদান থাকে তাই হলো এনামেল।
ফরমালিন একটি বিষাক্ত যৌগ। মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হলে তা মাছের কোষের সাথে যৌগ তৈরি করে ফেলে। মাছ ধোয়া হলেও ঐ যৌগটি মাছের দেহে থেকে যায়। যা পরে রান্না করা মাছের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করে। এই বিষাক্ত যৌগ নানা রকম জটিল রোগের উপসর্গের কারণসহ অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারজাতীয় রোগের সৃষ্টি করে। তাই মাছে ফরমালিন ব্যবহার ক্ষতিকর।
উদ্দীপকে চিত্র- দ্বারা পাকস্থলীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন খাদ্য গ্রহণে অনিয়ম এবং এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে পাকস্থলীতে সৃষ্ট সমস্যা হলো গ্যাস্ট্রিক আলসার।
আলসার বলতে যেকোনো এপিথেলিয়াম বা আবরণী টিস্যুর একধরনের ক্ষত বোঝায়। পেপটিক আলসার বলতে খাদ্যনালির কোনো অংশের আলসার বোঝায়। সেটি যদি পাকস্থলীতে হয় তাহলে তাকে গ্যাস্ট্রিক আলসার, ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগ্রহণে অনিয়ম হলে পাকস্থলীতে অম্লের আধিক্য ঘটে এবং অনেক দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে এই অম্ল বা এসিড দিয়ে পাকস্থলীতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে গ্যাস্ট্রিক আলসার হতে পারে। তবে গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, বিষণ্ণতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া যে শুধু আলসারের জন্য দায়ী তাই নয়, এ থেকে পাকস্থলীর ক্যান্সারও হতে পারে। পেপটিক আলসার রোগে সাধারণত পেটের ঠিক মাঝ বরাবর, নাভির একটু উপরে একঘেয়ে ব্যথা অনুভূত হয়। খালি পেটে বা অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাদ্য খেলে ব্যথা বাড়ে। আলসার মারাত্মক হলে বমি হতে পারে। কখনো কখনো বমি এবং মলের সাথে রক্ত নির্গত হয়। এন্ডোসকপি বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত Y ও Z হলো যথাক্রমে পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয়। পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয় মানবদেহে বিপাকীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিত্তথলিতে পিত্তরস জমা থাকে। পিত্তরস খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। পিত্তলবণ স্নেহ পদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানির সাথে মিশতে সাহায্য করে। পিত্তলবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান। লাইপেজের কাজ যথাযথ সম্পাদনের জন্য পিত্তলবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ লবণের সংস্পর্শে স্নেহ পদার্থ সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত হয়।
আবার অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে। অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে সরল শর্করায় পরিণত করে। ট্রিপসিন পাকস্থলী থেকে আগত আংশিক পরিপাককৃত আমিষকে (প্রোটিওজ ও পেপটোন) ভেঙে পলিপেপটাইড, ডাই-অক্সাইড ও সরল পেপটাইড (অ্যামাইনো এসিডে) পরিণত করে। অন্যদিকে সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্নেহ দানাকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করতে লাইপেজ বিশেষ ভূমিকা রাখে।
তাই আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয় বিপাকীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
