নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
মধ্যচ্ছদা: বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বর পৃথককারী পেশীবহুল পর্দাকে মধ্যচ্ছদা বলে।
শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁস বীজ এবং উদ্ভিদের ডাঁটা, ফলমূল, পাতায় আঁশ বা রাফেজ থাকে। এগুলো মূলত কোষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং লিগনিন। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। রাফেজযুক্ত খাবার বিষাক্ত বর্জনীয় বস্তুকে খাদ্যনালি থেকে পরিশোষণ করে। ধারণা করা হয়, এরূপ খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। এছাড়াও আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে দেহের জন্য আঁশ জাতীয় খাবার প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলী। এটি অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মাঝখানে অবস্থিত পেশিবহুল ও পুরু প্রাচীর বিশিষ্ট গলির মত অঙ্গ। নিচে পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো:
পাকস্থলীতে খাদ্য আসার পর অন্তঃপাচীরের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। গ্যাস্ট্রিক রসের মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে। হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের মধ্যে কোনো অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা মেরে ফেলে। নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। পেপসিন এক ধরনের এনজাইম যা আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।
তাছাড়াও পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসারণ এবং এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে অপরিপাককৃত খাদ্য মিশ্র মন্ডে পরিণত হয়। একে পাকমন্ড বা কাইম বলে। যা পরবর্তী পরিপাকের জন্য ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে।
উদ্দীপকের চিত্রের B অংশ হলো ডিওডেনাম এবং 'C' ও 'D' অংশের নাম হলো যথাক্রমে যকৃত এবং অগ্ন্যাশয়। ডিওডেনামে যকৃত এবং অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো-
পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে। এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে। এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে। পাচকরসের এনজাইম দিয়ে শর্করা এবং আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহপদার্থের পরিপাক শুরু হয়। যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। এটি অম্লীয় অবস্থায় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। পিত্ত-লবণ স্নেহপদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানির সাথে মিশতে সাহায্যে করে। পিত্ত লবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান। লাইপেজ নামক এনজাইমের কাজ যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য পিত্ত-লবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ লবণের সংস্পর্শে স্নেহপদার্থ সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত হয়। স্নেহবিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলে পরিণত করে।
অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে। অ্যন্ত্রিক রসে আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ ও সুক্রেজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে। আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।
ক্ষুদ্রান্ত্রে সব ধরনের খাদ্যই সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট এনজাইমের ক্রিয়ায় পরিপাক হয়ে সরল, শোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানে পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে খাদ্য উপাদান পরিপাকের জন্য যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
