বিদ্যালয়ে পিটি চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী ক্লান্ত অনুভব করায় বিজ্ঞান শিক্ষক তাদেরকে এক গ্লাস করে শরবত খেতে দিলেন। ফলে তারা শক্তি ফিরে পেল এবং শিক্ষকের নিকট এই শক্তি ফিরে পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক বলেন- “এটি একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জটিল খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি উৎপাদন করে।”
সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার পর্যায়ে CO₂ বিজারণের যে গতিপথে ৪-কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয় তাকে C4 গতিপথ বলে।
পাতার ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে সক্ষম। সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত ও প্রচুর পরিমাণে পুনর্গঠিত হওয়া প্রয়োজন। তবে কোষে খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন। এ শ্বসন প্রক্রিয়ায় বাহ্যিক তিনটি প্রভাবক- তাপমাত্রা, অক্সিজেন ও পানির প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
তাপমাত্রা : ২০° সে. এর নিজে এবং ৪৫° সে. এর উপরের তাপমাত্রায় শ্বসন হার কমে যায়। শ্বসনের জন্য উত্তম তাপমাত্রা ২০° সে. থেকে ৪৫° সে.।
অক্সিজেন : সবাত শ্বসনে পাইরুভিক এসিড জারিত হয়ে CO₂ ও H₂O উৎপন্ন করে। কাজেই অক্সিজেনের অভাবে সবাত শ্বসন কোনোভাবেই চলতে পারে না।
পানি : পরিমিত পানি সরবরাহ শ্বসন ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু অত্যন্ত কম কিংবা অতিরিক্ত পানির উপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
উদ্দীপকে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো শ্বসন। ইস্টে শ্বসন অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে থাকে, এ ধরনের শ্বসনকে অবাত শ্বসন বলে। অবাত শ্বসনের মাধ্যমে শ্বসনিক বস্তু কোনো মধ্যস্থ এনজাইম দ্বারা আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ। (ইথাইল অ্যালকোহল, ল্যাকটিক এসিড ইত্যাদি), CO₂ ও সামান্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। অবাত শ্বসনের বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ :
অবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি দুইটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা-
ধাপ-১ :গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ: এই ধাপে এক অণু গ্লুকোজ থেকে দুই অণু পাইরুভিক এসিড, চার অণু ATP এবং দুই অণু NADH + H+ উৎপন্ন হয়।
ধাপ-২ :পাইরুভিক এসিডের বিজারণ : সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত এনজাইমের কার্যকারিতায় পাইরুভিক এসিড বিজারিত হয়ে CO₂ এবং ইথাইল অ্যালকোহল অথবা শুধু ল্যাকটিক এসিড উৎপন্ন করে।
