সূর্যলোকের উপস্থিতিতে ADP এর সঙ্গে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে ফসফোরাইলেশন বলে।
সকালবেলা সূর্যালোকের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারও বাড়তে থাকে। দুপুরের সূর্যের প্রখর তাপে উদ্ভিদের দেহের আর্দ্রতা কমে যায়। অতিরিক্ত বাষ্পায়ন রোধ করতে পাতার বেশ কিছু পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে গ্যাসীয় আদান-প্রদান কমে যায়। এজন্য বিকেলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
উদ্দীপকের সাহেবের গৃহীত খাদ্য উপাদান হচ্ছে মধু এবং এক গ্লাস ফলের রস। উভয় খাবারেই গ্লুকোজ বিদ্যমান। গ্লুকোজ মানবদেহে সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় জারিত হয়ে CO₂, H₂O ও বিপুল পরিমাণ ATP উৎপন্ন করে। উক্ত শ্বসন প্রক্রিয়াটি ৪টি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এর তৃতীয় ধাপটি হচ্ছে ক্রেবস চক্র। ২ অণু গ্লুকোজ হতে সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার ক্রেবস চক্রে উৎপন্ন হওয়া ATP-র পরিমাণের তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
এখানে, ১ অণু NADH ৩ অণু ATP
১ অণু FADH2 ⟶ ২ অণু ATP
১ অণু GTP ⟶১ অণু ATP
সুতরাং এভাবে ক্রেবসচক্রে ২ অণু গ্লুকোজ থেকে মোট ৪৮ অণু ATP উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো শ্বসন প্রক্রিয়া। শ্বসন প্রক্রিয়াটি জীবজগতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
শ্বসনের ফলে উৎপন্ন শক্তি দিয়ে জীবের সব ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া ও কাজকর্ম পরিচালিত হয়। শ্বসনে নির্গত CO₂ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে এবং পরিবেশে অক্সিজেন ত্যাগ করে। এ খাদ্য খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিভিন্ন জীব গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। আর অনেক জীব অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি তৈরি করে শারীরবৃত্তীয় কাজ করে এবং জীবন পরিচালনা করে। এছাড়া কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি শ্বসন প্রক্রিয়া হতে আসে। এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন জৈব এসিড সৃষ্টিতে সহায়তা করে। তাছাড়া কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি, প্রজনন, বংশগতি রক্ষা ইত্যাদি সম্পন্ন হয়। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়- উদ্ভিদ ও প্রাণী তথা জীবের জীবন ধারণ বা টিকে থাকা শ্বসনের উপর নির্ভরশীল।
