DNA সাধারণত দুই সূত্রবিশিষ্ট পলিনিউক্লিওটাইডের সর্পিলাকার গঠন। এতে পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা, নাইটোজেনঘটিত বেস বা ক্ষার এবং অজৈব ফসফেট থাকে। এই তিনটি উপাদানকে একত্রে নিউক্লিওটাইড বলে।
জীবদেহে শক্তির প্রয়োজন হলে ATP (Adenosine triphosphate) এর তৃতীয় ফসফেট বন্ধনী ভেঙ্গে শক্তি নির্গত হয়। ATP থেকে একটি ফসফেট নির্গত হয়ে গেলে দুটি ফসফেট বন্ধনী বাকি থাকায় ADP (Adenosine diphosphate) সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে B প্রক্রিয়া দ্বারা সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হওয়ার প্রবাহচিত্র নিচে দেওয়া হলো-
উদ্দীপকে A প্রক্রিয়া দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। জীবজগতের জন্য সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া অপরিহার্য। নিচে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে সমগ্র জীবজগৎ টিকে আছে। সবুজ উদ্ভিদ শক্তির মূল উৎস সূর্য হতে সৌরশক্তি গ্রহণ করে তাকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ রাখে। উদ্ভিদ তাদের শারীরবৃত্তীয় কাজ ও বৃদ্ধির জন্য এ শক্তির কিছু অংশ ব্যয় করে। সালোকসংশ্লেষণ না হলে প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে ধীরে ধীরে সমগ্র উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কোনো প্রাণীই তার নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে না। প্রাণীরা খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তারা সালোকসংশ্লেষণের ফলে উৎপন্ন শর্করাকে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। প্রাণীরা উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন খাদ্য যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, ঘাস ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে। যদি সালোকসংশ্লেষণ না হতো তবে সমগ্র উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যেত। ফলে প্রাণীরা খাদ্যের অভাবে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যেত। তাছাড়া সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশের O₂ ও CO₂ এর ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রাণীরা সবসময় CO₂ ত্যাগ করে। এ CO₂ উদ্ভিদ গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং O₂ ত্যাগ করে। ফলে প্রাণীরা শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় O₂ পায়।
সুতরাং উপরোক্ত পর্যালোচনা হতে বলা যায় অস্তিত্ব রক্ষায় সকল জীব সালোকসংশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ প্রক্রিয়াটি সংঘটিত না হলে জীবজগতের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করি।
