নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ও সহযোগে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাই সালোকসংশ্লেষণ।
কম বয়সী পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের পরিমাণ কম থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যাও বেশি হয়। মধ্যবয়সী পাতায় সবচেয়ে বেশি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। মধ্যবয়সী পাতার তুলনায় কম বয়সী পাতায় ক্লোরোপ্লাস্ট কম থাকায় সালোকসংশ্লেষণের হারও কম হয়।
উদ্দীপকের চিত্র: S হলো শ্বসন প্রক্রিয়ার গ্লাইকোলাইসিস ধাপ।
এটি সবাত ও অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। উচ্চ ও নিম্নশ্রেণির সকল জীবে গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উচ্চশ্রেণির জীব অর্থাৎ উন্নত উদ্ভিদ ও প্রাণিদের স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া হলো সবাত শ্বসন। অপরদিকে, নিম্নশ্রেণির কিছু কিছু জীবে (যেমন- কতিপয় ব্যাকটেরিয়া) অবাত শ্বসন সম্পন্ন হয় কারণ এরা অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। সবাত শ্বসনের চারটি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপটি হলো গ্লাইকোলাইসিস যা সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয় এবং এর জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না। আবার অবাত শ্বসনের প্রথম ধাপটিও সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত গ্লাইকোলাইসিস। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হতে পারে বলে সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেই গ্লাইকোলাইসিস সংঘটিত হয়। অর্থাৎ উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উচ্চ ও নিম্নশ্রেণির সকল জীবে 'S' অর্থাৎ গ্লাইকোলাইসিস সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের P ও S দ্বারা যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য যে শ্বসনিক বস্তু বা গ্লুকোজের প্রয়োজন হয় তা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। তাই সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে যার ফলে জীবজগৎ ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-সলোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক, , পানি এবং ক্লোরোফিল আবশ্যক। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্লুকোজ তৈরি হয়। এ ধরনের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াই হলো সালোকসংশ্লেষণ। এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। সালোকসংশ্রেষণে ব্যবহৃত শ্বসনের ফলে তৈরি হয়ে থাকে। সকল জীবকোষেই শ্বসন ক্রিয়া দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ার শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও উৎপন্ন করে। শ্বসনে ব্যবহৃত শর্করা (গ্লুকোজ) ও সালোকসংশ্লেষণেই তৈরি হয়ে থাকে।
তাই দেখা যায় যে, সালোকসংশ্লেষণের শর্করা এবং তৈরি না হলে শ্বসন্ন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে জীবজগত ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।
