A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকের বিক্রিয়াগুলো…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – জীবনীশক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের উদ্দীপকের বিক্রিয়াগুলো লক্ষ কর-

উত্তর:

জীবদেহ বা জৈব অনুর রাসায়নিক বন্ধন ছিন্ন করার মাধ্যমে প্রাপ্ত শক্তিই হচ্ছে জীবনীশক্তি বা জৈবশক্তি।

উত্তর:

জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে তথা জীবদেহে প্রতিনিয়ত হাজারো রকমের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়। শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙে। তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে। এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। এজন্য ATP কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' বলা হয়।

উত্তর:

উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটি দ্বারা সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে দেখানো হয়েছে। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয় যার তৃতীয় ধাপটি হলো ক্রেবস চক্র। নিচে ধাপটি বর্ণনা করা হলো-ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ Sir Hans Krebs এ চক্রটি আবিষ্কার করেন বলে একে ক্রেবস চক্র বলা হয়। এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল Co-A মাইটোকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, তিন অণু NADH + H+, এক অণু FADH₂-এবং এক অণু GTP (গুয়ানোসিন ট্রাইফসফেট) উৎপন্ন হয় (অর্থাৎ দুই অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে চার অণু CO2, 6 অণু NADH + H+, দুই অণু FADH₂ এবং দুই অণু GTP উৎপন্ন হয়)। উল্লেখ্য, প্রাণিকোষের ক্রেবস চক্রে কখনো কখনো GTP এর পরিবর্তে সরাসরি ATP উৎপন্ন হতে পারে, কিন্তু প্রায় সমস্ত উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এই চক্রে GTP এর পরিবর্তে সবসময়ই ATP উৎপন্ন হয়। পরবর্তী ধাপ ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে যেহেতু এক অণু GTP এর সমতুল্য হিসেবে এক অণু ATP উৎপন্ন হয়, সেহেতু এই পার্থক্যটি ক্রেবস চক্র থেকে উৎসারিত মোট শক্তির পরিমাণে কোনো তারতম্য ঘটায় না।

উত্তর:

উদ্দীপকে (ⅰ) ও (ii) নং বিক্রিয়া দ্বারা যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দুটির উপর জীবের জীবন পুরোপুরি নির্ভরশীল। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-প্রকৃতিতে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে। কোনো প্রাণীই তার নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য তাই সমগ্র প্রাণিকুলকে সম্পূর্ণভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভর করতে হয়। কাজেই বলা যায়, পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্য তৈরি হয় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, বিশেষ করে O2CO2 এর সঠিক অনুপাত রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়া এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সকল জীব শ্বসন প্রক্রিয়ায় O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে। কেবল শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমন্ডলে O2 এর স্বল্পতা এবং CO2 এর আধিক্য দেখা দিবে । কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 গ্রহণ ও O2 ত্যাগ করে বলে বায়ুমণ্ডলে O2CO2 গ্যাসের ভারসাম্য বজায় থাকে। এজন্য জীবকুল সুষ্ঠুভাবে বেঁচে রয়েছে। তাই বলা যায়, জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় তথা জীবের জীবন সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়া দুটির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

11 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘নিচের উদ্দীপকের বিক্রিয়াগুলো…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – জীবনীশক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”