জবা গাছের কচি কাণ্ডে এবং পরাগধানীর কোষ বিভাজনের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়।
মাইটোসিস বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপে কতকগুলো তন্তুময় প্রোটিন সমন্বয়ে দুই মেরু বিশিষ্ট যে গঠন তৈরি হয় সেই গঠনই হলো স্পিন্ডল যন্ত্র।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুইটি, দুইটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন চলতে থাকে। ফলে সেখানে দ্রুত কোষের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অর্বুদ গঠিত হয়ে টিউমার সৃষ্টি হয়। টিউমার অনেক সময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের কোষ বিভাজনটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। কারণ জবা ফুলের কচি কান্ডে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। মাইটোসিসের নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়াকে, পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর ৩য় পর্যায়টি হলো মেটাফেজ। নিচে মাইটোসিসের মেটাফেজ পর্যায়ের চিত্রসহ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
মাইটোসিস পর্যায়ের প্রথমেই সব ক্রোমোজোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে দুই মেরুর মাঝখানে অবস্থান করে। প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহু দুটি মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে। এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক খাটো ও মোটা হয়। প্রতিটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড দুটির আকর্ষণ কমে যায় এবং বিকর্ষণ শুরু হয়।
এ পর্যায়ের শেষ দিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয়। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে পরাগধানীর কোষ বিভাজনের কথা বলা হয়েছে। পরাগধানীতে মিয়োসিস কোষ বিভাজন সংঘটিত হয়। মিয়োসিস বিভাজন প্রজাতির বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্ট দুটি হ্যাপ্লয়েড পুং জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি হয়। ফলে প্রজাতির ধারা অক্ষুন্ন থাকে। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি ঘটনা ঘটে। মিয়োসিস বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াস দুই বার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়। ক্রোমোজোমের এই বিভাজনের সময় বিভিন্ন ক্রোমোজোমের মধ্যে তাদের অংশের বিনিময় ঘটে। ফলে মাতৃকোষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত হয়ে জনন কোষগুলোতে নতুন বৈশিষ্ট্যের আর্বিভাব ঘটে। এছাড়া বাবা ও মা থেকে আগত ক্রোমোজোমগুলো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। ফলে নতুন বংশধরে নতুন নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। - এতে একই প্রজাতিতে বৈচিত্র্যের সৃস্টি হয়।
