নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
কোষ বিভাজনকালে নিউক্লিয়াসের বিভাজনই হচ্ছে ক্যারিওকাইনেসিস।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে - এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র ও দ্বারা যথাক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিচে উল্লেখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াদ্বয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো-
১. মাইটোসিস বিভাজন সাধারণত জীবের দৈহিক কোষে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, মিয়োসিস বিভাজন সাধারণত জীবের জনন কোষে হয়ে থাকে।
২. মাইটোসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।
৩. মাইটোসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। কিন্তু মিয়োসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়।
৪. মাইটোসিস বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। অপরদিকে মিয়োসিস বিভাজনে অপত্য কেষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে।
৫. মাইটোসিস বিভাজনে সাধারণত ক্রসিংওভার হয় না। মিয়োসিস বিভাজনে সাধারণত ক্রসিংওভার হয়।
৬. মাইটোসিস বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের গুণাগুণ মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমগুণ সম্পন্ন হয়। অপরদিকে মিয়োসিস বিভাজনে অপত্য ক্রোমোজোম মাতৃকোষের ক্রোমোজোম হতে ভিন্নতর গুণসম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকের চিত্র- এর বিভাজনটি মাইটোসিস, যা কোষের নিয়ন্ত্রিত বিভাজন প্রক্রিয়া। যদি এই বিভাজন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে থাকে, যার ফলে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার, এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অর্বুদ সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুসমূহের কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ, তথা ক্যান্সার। ক্যান্সার কোষও নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।
