দশম শ্রেণির ছাত্র আহনাফ তার জীববিদ্যা বই থেকে জানতে পারলো যে, দুইটি কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মধ্যে মাইটোসিস একটি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে এ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
ক্যান্সার হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো, মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ৪র্থ পর্যায়টি হলো অ্যানাফেজ পর্যায়। নিচে মাইটোসিসের অ্যানাফেজ পর্যায় বর্ণনা করা হলো-অ্যানাফেজ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে ক্রোমোটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে এবং এতে একটি করে। সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পরস্পর বিপরীত মেরুর দিকে সরে যেতে থাকে। অপত্য ক্রোমোজোমের মেরু অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো V, L, J বা I-এর মতো আকার ধারণ করে। এদেরকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক বলে। অ্যানাফেজ পর্যায়ের শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডলযন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দুইটি কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া হলো মাইটোসিস ও মিয়োসিস। এর মধ্যে মিয়োসিস হলো সেই প্রক্রিয়া, যা জীবের জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে এবং প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্ট দুটি হ্যাপ্লয়েড পুং জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি হয়। ফলে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি ঘটনা ঘটে। মিয়োসিস বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াস দুই বার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়। ক্রোমোজোমের এই বিভাজনের সময় বিভিন্ন ক্রোমোজোমের মধ্যে তাদের অংশের বিনিময় ঘটে। ফলে মাতৃকোষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত হয়ে জনন কোষগুলোতে নতুন বৈশিষ্ট্যের আর্বিভাব ঘটে। এছাড়া বাবা ও মা থেকে আগত ক্রোমোজোমগুলো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। ফলে নতুন বংশধরে নতুন নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এতে একই প্রজাতিতে বৈচিত্র্যের সৃস্টি করে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
