নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
এক অণু পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট শর্করা এক অণু নাইট্রোজেন ঘটিত বেস এবং এক অণু এক অণু ফসফেট যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠন করে তাই নিউক্লিওটাইড।
যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন তাকে সরল টিস্যু বলে। প্যারেনকাইমা টিস্যুকে সরল টিস্যু বলা হয়। কারণ প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রতিটি কোষের আকার, আকৃতি ও গঠন একই রকম। উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে। এসব কারণেই প্যারেনকাইমাকে সরল টিস্যু বলা হয়।
উদ্দীপকের প্রদত্ত চিত্রটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন এবং সমীকরণিক কোষবিভাজন বলতে মাইটোসিস কোষবিভাজনকে বুঝানো হয়েছে। নিচে মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। মিয়োসিস কোষ বিভাজন উন্নত জীবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-
উচ্চশ্রেণির জীবে মিয়োসিসের ফলে একটি জনন মাতৃকোষ হতে চারটি জনন কোষের সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেক কোষে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক ক্রোমোজোম থাকে। আমরা জানি, দুটি জননকোষ একসাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট পরে বারবার মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে একটি ভ্রূণ এবং ভ্রূণের কোষগুলো আরও বিভাজিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি করে। কাজেই জনন কোষগুলোতে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক না হলে তাদের যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এভাবে হ্যাপ্লয়েড জীবে দুটি গ্যামেটের যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোটেও ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। যেহেতু ক্রোমোজোমই জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন বহন করে, সেহেতু ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেলে সন্তান-সন্ততি তাদের পিতামাতার গুণসম্পন্ন হবে না। যার ফলে প্রত্যেকটি প্রজাতিতে ঘটে যাবে একটি আমূল পরিবর্তন।
কিন্তু মিয়োসিস বিভাজনের প্রথম বিভাজনের সময় অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেকে পরিণত হয় এবং দ্বিতীয় বিভাজনটি মাইটোসিসের অনুরূপ। অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। এভাবেই প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোজোম নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে।
