A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার…’ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর মঞ্জুর সাহেব তার ভগিনী মাজেদার দায়িত্ব নেয়। মাজেদাকে সে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। দ্বিতীয়বার ভগিনীকে বিয়ে দিতে অনেক টাকা প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে মাজেদাকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করে এবং বিয়ে ভেঙে দেয়।

উত্তর:

১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণীত হয়।

উত্তর:

জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠেছে বলে জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।

হাতেম আলি জমিদার। খাজনা বাকি পড়ায় তার জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা না দিতে পারলে জমিদারি অন্যের কাছে হস্তান্তর করত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। হাতেম আলি সারা জীবন জমিদার ছিলেন। শেষ বয়সে এসে জমিদারি হারাতে হবে এটা তিনি মানতে পারেননি। আবার জমিদারি বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তাও তিনি জোগাড় করতে পারছেন না। এসব কারণেই হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।

উত্তর:

'বহিপীর' নাটকে হাতেম আলি একজন আদর্শ মানুষ। কারণ তিনি টাকার জন্য তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি- এই বিষয়টি উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

'বহিপীর' নাটকে জমিদার হাতেম আলি একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ। তিনি নিজের স্বার্থ ভুলে তাহেরার কল্যাণের কথা চিন্তা করেছেন। তাই বহিপীরের কথায় রাজি না হয়ে তাহেরার ভালো চেয়েছেন।

উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেব একজন স্বার্থবাদী মানুষ। তাই টাকা বাঁচানোর জন্য সে তার বোনকে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। মঞ্জুর সাহেবের বিপরীত চরিত্র হলো 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি। কারণ তিনি জমিদারি রক্ষা করার ক্ষেত্রে পিরের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার শর্তেও বহিপীরের হাতে তাহেরাকে তুলে দিতে রাজি হননি। সুতরাং দেখা যায় যে, উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলির চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

উত্তর:

উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী কুসংস্কারাচ্ছন্ন না হওয়ায় মাতৃসুলভ সহানুভূতি থাকলেও উদ্দীপকের মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রী চরিত্রটি পুরোপুরি 'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রের মতো নয় মন্তব্যটি যথার্থ।

'বহিপীর' নাটকে লেখক খোদেজা চরিত্রের পিরভক্তি ও কুসংস্কার তুলে ধরেছেন। কুসংস্কার মানুষের জন্য অভিশাপ। কারণ মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে অনেক সময় সত্যকে বাদ দিয়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করে। ফলে অনেক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনো বিপদও হয়। আর যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে, বোধের স্ফুরণ আছে তারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না।

উদ্দীপকে মঞ্জুর সাহেবের স্ত্রীর চরিত্রে মাতৃসুলভ আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। মাজেদাকে তার ভাই মঞ্জুর সাহেব বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু বিয়েতে টাকা খরচ হবে, এটা ভেবে এক ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে জোর প্রতিবাদ করে তার স্ত্রী। সে বুঝতে পারে যে সতিনের সংসার কুরুক্ষেত্রের মতো, মাজেদা সেখানে শান্তি পাবে না। 'বহিপীর' নাটকে খোদেজা চরিত্রের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ খুঁজে পাই। তাহেরা বিপদে পড়ায় খোদেজা তাহেরাকে বজরায় তুলে নেন। যত্ন করেন, মাথার চুল আঁচড়ে দেন। মেয়ের মতো ব্যবহার করেন তাহেরার সঙ্গে।

'বহিপীর' নাটকের খোদেজা চরিত্রটি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কারণ তাহেরাকে তিনি মাতৃস্নেহ দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠিকই; কিন্তু যখন বুঝলেন যে, তাহেরা পীরের অবাধ্য স্ত্রী, তখনই তার মাতৃস্নেহ ম্লান হয়ে যায়। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে কিশোরী তাহেরার দাম্পত্য জীবন কেমন বেমানান আর অন্যায় হবে, সেটা বিবেচনা না করেই তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দিতে চান। এ অন্যায়কে হাশেম রোধ করতে গেলে খোদেজা পীরের অভিশাপের ভয় দেখান। পীরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমিদারি রক্ষা করতে চান। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার…’ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”