A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (8 hours ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আজাদের বাবা নামকরা…’ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📘 ২য় অধ্যায় : ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়🔢 সৃজনশীল নম্বর: ৩৭⭐ গুরুত্ব: ⭐⭐⭐⭐⭐

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আজাদের বাবা নামকরা পির ছিলেন। কিন্তু আজাদ লেখাপড়া শিখেছেন। শহরে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন পর গ্রামে বেড়াতে আসেন। গ্রামের মুরব্বি তার কাছে এসে তাকে সালাম করতে যায়। আজাদ সাহেব নিজেই তাকে সালাম করেন, কিন্তু মুরব্বি এ ঘটনায় নিজেকে পাপী মনে করেন। আরেকজন তার কাছে পানি পড়া নিতে আসে। তাকে আজাদ সাহেব বোঝানোর চেষ্টা করেন।

উত্তর:

'বহিপীর' নাটকের প্রথম সংলাপটি হাশেমের।

উত্তর:

বিয়ে হলো তকদিরের কথা- এ কথাটি জমিদারপত্নী খোদেজা বলেছেন তাহেরাকে উদ্দেশ করে। এখানে বিষয়কে বোঝানো হয়েছে।

বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মানুষ সুখী হতে চায়। কিন্তু বিয়ে করলেই যে কেউ সুখী হবে, তার নিশ্চয়তা নেই, কেউ তা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে দুর্বলচিত্ত মানুষ কর্মশক্তির তুলনায় ভাগ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তারা মনে করে, ভাগ্য ভালো হলে সুখ আসবে, আর ভাগ্য খারাপ হলে তা আসবে না। এ কারণেই বলা হয়েছে- বিয়ে হলো তকদিরের কথা।

উত্তর:

'বহিপীর' নাটকে পীরের প্রতি অন্ধভক্ত মানুষ দেখা যায় এবং সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায়।

'বহিপীর' নাটকে পিরপ্রথার বাস্তব দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে 'পীর' মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। কারণ সমাজের মানুষের মতে পীর খোদার প্রিয় বান্দা। পীর অনেক ক্ষমতা রাখেন, ক্ষমতার কারণেই খোদার সঙ্গে তার সম্পর্ক সাবলীল এবং মানুষ ঐ পীরের ক্ষমতার মাধ্যমে খোদার অনুগ্রহ পেতে চায়।

উদ্দীপকে আজাদের বাবা একজন নামকরা পীর ছিলেন। আজাদের বাবার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির কারণে মানুষ চায় আজাদও তার পিতার মতো কাজ করুক। তারা আজাদকে পীরের সন্তান হওয়ায় পীর মনে করতে থাকে। 'বহিপীর' নাটকেও এ সমাজব্যবস্থার অনুরূপ চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বহিপীরকে সাধারণ মানুষ হিসেবে গণ্য করে না, তাদের কাছে তিনি অতিমানব। এ কারণেই সারা বছর তাকে মানুষের আতিথ্য গ্রহণ করতে হয়। এমনকি বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী কন্যাকে বিয়ে দিতেও কেউ দোষের মনে করে না। এভাবে পীরের প্রতি যে অন্ধভক্তি তা উদ্দীপক এবং 'বহিপীর' নাটক উভয় সমাজব্যবস্থাতেই সমান বলে মনে হয়।

উত্তর:

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিকটি উদ্দীপকের আজাদের মধ্যে না থাকায়, উদ্দীপকের আজাদ চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের বহিপীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী নয় মন্তব্যটি যথার্থ।

'বহিপীর' নাটকে নাট্যকার বহিপীর চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের ধর্মব্যবসায়ীদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন। ধর্ম মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বিষয় হিসেবে বিবেচিত। কারণ ধর্মের মাধ্যমে মানুষ আত্মিক শান্তি লাভ করে। ফলে যারা ধর্মসংশ্লিষ্ট মানুষ তাদের প্রতিও একধরনের দৃঢ়বিশ্বাস থাকে। তবে বহিপীরের মতো কিছু অসাধু মানুষ আছে, যারা এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করে।

উদ্দীপকে আজাদের বাবা নামকরা পীর ছিলেন। কিন্তু আজাদ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। শহরে চাকরি করেন। অনেকদিন পর গ্রামে গিয়ে দেখলেন যে, মানুষ তাকে অত্যন্ত ভক্তি করছে। মানুষ পানিপড়া নিতে আসছে। আজাদ তাদের সালাম করলে তারা পাপ মনে করছে। আজাদ এ বিষয়টি প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। অন্যদিকে 'বহিপীর' নাটকেও দেখা যায়, বহিপীরের প্রতি মানুষ অনেক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ফলে সারা বছরই তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। তিনি মুখ ফুটে বললেই মানুষ অনেক টাকা বের করে দিতে প্রস্তুত। এমনকি ভক্তির কারণে বৃদ্ধ পীরের কাছে কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতেও আপত্তি করে না।

'বহিপীর' নাটকে বহিপীরকে অত্যন্ত সুযোগসন্ধানী চরিত্রের মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়, যার বৈষয়িক জ্ঞান অত্যন্ত জোরালো। মানুষের - অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই বহিপীর তাহেরাকে বিয়ে করেছেন। উদ্দীপকের আজাদের প্রতিও মানুষের অন্ধভক্তি আছে। ইচ্ছা করলেই আজাদ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ধর্মব্যবসায়ী নন, তাই তিনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

2 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আজাদের বাবা নামকরা…’ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”