A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘রিমি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

রিমি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে একটি এনজিওতে কাজ নিয়েছে। কাজের প্রয়োজনে তাকে মোটর সাইকেলে করে গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে হয়। ধর্মীয়-গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের কারণে গ্রামের কিছু লোক ব্যাপারটি সহজভাবে মেনে নেয়নি। তারা রিমিকে চাকরি ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করে, কিন্তু রিমি কিছুতেই তা করতে রাজি নয়। এমন সংকটময় মুহূর্তে তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব। তিনি ঐ লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নারীপুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনা দরকার।”

উত্তর:

বহিপীর হকিকুল্লাহকে পুলিশ ডেকে আনতে বললো।

উত্তর:

'নতুন এক জীবনের স্বাদ পেয়েছি।'- কথাটি জমিদার হাতেম আলি বলেছেন।

জমিদার হাতেম আলি জমিদারি রক্ষা করার টাকা জোগাড় করতে পারহেন না। বহিপীর তাকে সেই টাকা কর্জ দিয়ে বিনিময়ে তাহেরাকে সঙ্গে নেওয়ার প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবে জমিদারের স্ত্রী খোদেজা রাজি হলেও হাতেম আলি বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেন। হাশেমের কাছে সব শুনে তিনি যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন তখন বহিপীরের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তিনি বহিপীরকে বলেন, "আমি এভাবে টাকা নিতে পারব না। যায় যাক জমিদারি।" তখন বহিপীর জানতে চান, কথাটি তিনি ভেবে বলেছেন কি না। হাতেম আলি তাকে জানান যে, হঠাৎ তার সব ভয়-ভাবনা কেটে গেছে এবং তিনি এক নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মনোভাবে 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি অত্যন্ত সচেতন একটি চরিত্র। সে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তার মনে কোনো কুসংস্কার নেই। তৎকালীন পিরপ্রথার অন্ধ অনুকরণে সমাজব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়। হাশেম আলির মা খোদেজা পির সাহেবের অদ্ধভক্ত। অথচ হাশেম আলি এসব ধর্মীয় কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত। সে মানবিকবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। বহিপীর জোরপূর্বক তাহেরাকে বিয়ে করতে চাইলে হাশেম আলি বাধা দেয়। সে বহিপীরের হাত থেকে তাহেরাকে রক্ষা করেই ক্ষাস্ত হয়নি। বরং তাহেরার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে তাকে বিয়ে করতে সম্মত হয়।

উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, রিমি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে একটি এনজিওতে কাজ নেয়। সে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মোটর সাইকেল চালায়। তার এ বিষয়টি এলাকার মানুষ স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়নি। তারা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু রিমি কিছুতেই চাকরি ছাড়তে রাজি নয়। এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে দেবদূত হিসেবে আবির্ভূত হন এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব। তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ন্যায় ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি তাহেরার সঙ্কটময় মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মনোভাবে ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

উত্তর:

"উদ্দীপকের রিমি ও ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা উভয়ই অনমনীয় চরিত্রের অধিকারী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা প্রধান নায়িকা চরিত্র। সে কুসংস্কারমুক্ত, জীবনসচেতন ও প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী। তার চরিত্রের মধ্যে অনমনীয় বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তাহেরা অনমনীয় হওয়ার কারণে তার পিতামাতার ভুল সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। তাই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে ছিল। ঘটনাক্রমে সে জমিদারের বজরায় আশ্রয় নেয়। বজরায় অবস্থানরত বহিপীরের সাথে তার নাটকীয়ভাবে দেখা হয়ে যায়। বহিপীর তাকে জোর করে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু তাহেরা তাতে রাজি হয়নি। হাশেম আলি ব্যতীত সবাই তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করলেও তাহেরা নমনীয়তা প্রদর্শন করেনি। সে তার সিদ্ধান্তেই অটল থাকে। যা তার অনমনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

উদ্দীপকের রিমি একজন স্বাস্থ্যকর্মী। সে একটি এনজিওতে কাজ করে। কাজের সুবিধার্থে সে মোটর সাইকেল চালায়। কারণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য সে মোটর সাইকেল ব্যবহার করে। একজন নারী হয়ে মোটর সাইকেল চালানোর বিষয়টি এলাকার কিছু মানুষ চরম বিরোধীতা শুরু করে। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের কারণেই তারা এমনটি করতে থাকে। তারা রিমিকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে। কিন্তু রিমি এত সহজে হার মানার পাত্রী নয়। সে দৃঢ়চিত্তে চাকরিতে বহাল থাকে। আর অফিসিয়াল কাজের প্রয়োজনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মোটর সাইকেল চালানো অব্যাহত রাখে। এতে তার অনমনীয় চরিত্রের বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের রিমি এবং ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা উভয়ই অনমনীয় চরিত্রের অধিকারী। কারণ তারা উভয়েই নিজ সিদ্ধান্তে দৃঢ়ভাবে অটল থেকেছে। সমাজের চোখ রাঙানিতে তারা ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়নি। বরং দৃঢ়তার সাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। উদ্দীপকের রিমি ও ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার মধ্যে প্রক্ষাপটগত অমিল থাকলেও উভয় চরিত্রের মধ্যে অনমনীয়তার গুণটি বিদ্যমান। অনমনীয় চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দুটি চরিত্রই এক ও অভিন্ন। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তারা কোনো আপোস করতে রাজি নয়। কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা অত্যন্ত সাহসিকতার ভূমিকা পালন করেছে। আর এ কাজের ক্ষেত্রে তাদের মনে অনমনীয় গুণটি বিশেষ প্রেরণা জুগিয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

10 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘রিমি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”