A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (8 hours ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আরমান সাহেবের ছেলে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📘 ২য় অধ্যায় : ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়🔢 সৃজনশীল নম্বর: ৩৯🏫 বোর্ড: দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ⭐⭐⭐⭐⭐

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আরমান সাহেবের ছেলে কঠিন রোগে আক্রান্ত। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। একান্ত নিরূপায় হয়ে তিনি প্রতিবেশী ধনী জোতদার বাদশা মিয়ার শরণাপন্ন হন। তিনি টাকা ধার দিতে রাজি হলেও শর্ত দেন যে, তার ছেলের সাথে আরমান সাহেবের মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আরমান সাহেবের মেয়ে এ বিয়েতে রাজি নয়। বিয়ের শর্তে টাকা ধার না নেওয়ার বিষয়টি জানাতে গেলে বাদশা মিয়া বলেন যে, “শর্ত ছাড়াই প্রতিবেশী হিসেবে আমি আপনাকে ধার দেব।”

উত্তর:

খোদা বহিপীরের দিলে রুহানি শক্তি দিয়েছেন।

উত্তর:

কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে তাহেরা বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়েতে সম্মত না হয়ে পালিয়ে জমিদারের স্ত্রী খোদেজার কাছে আশ্রয় পায়। খোদেজা তাহেরার সাহস দেখে উপর্যুক্ত উক্তিটি করেন।

বিয়েতে পুরুষের মতো নারীরও মতামতের ব্যাপার থাকে, যে কারণে বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে স্ত্রী হিসেবে নিজেকে মেনে নিতে পারেনি তাহেরা। তাই বিয়ের রাতেই সে পালিয়ে যায়। মাতৃসুলভ স্নেহানুভূতি নিয়ে পালিয়ে আসা তাহেরাকে নিজেদের বজরায় আশ্রয় দেয় জমিদার পত্নী খোদেজা। বিয়ের রাতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা তাহেরার সাহস দেখে জমিদার গিন্নি খোদেজা ভর্ৎসনা করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের আরমান সাহেবের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। তার জমিদারি একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে পৌছেছে। কারণ খাজনার টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তার এতদিনের জমিদারি নিলামে উঠবে। এজন্য হাতেম আলি তার বন্ধু আনোয়ারের নিকট টাকা ধার নেওয়ার জন্য চিকিৎসার অজুহাতে শহরে যান। কিন্তু তার বন্ধুর নিকট থেকে টাকা ধার পাননি। তাই অত্যন্ত নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন। হাতেম আলির বজরায় অবস্থানরত বহিপীর শর্ত সাপেক্ষে টাকা ধার দিতে চান। তবে শর্ত দেন যেন তাহেরাকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। হাতেম আলি তাহেরার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে শর্ত সাপেক্ষে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন।

উদ্দীপকের আরমান সাহেবের ছেলে কঠিন রোগে আক্রান্ত। টাকার অভাবে তিনি ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এজন্য প্রতিবেশী জোতদার বাদশা মিয়ার কাছে টাকা ধার চান। বাদশা মিয়া টাকা ধার দিতে রাজি হন তবে শর্ত হিসেবে তার ছেলের সাথে আরমান সাহেবের মেয়ের বিয়ে দিতে চান। কিন্তু আরমান সাহেবের মেয়ে এরূপ শর্তে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। ফলে তার সাথে বাদশা মিয়ার ছেলের বিয়ে ভেঙে যায়। আরমান সাহেব তার মেয়ের অমতের বিষয়টি বাদশা মিয়াকে অবহিত করেন। তিনি টাকা ধার নেওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে মেয়ের বিয়ে দিতে দ্বিমত পোষণ করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আরমান সাহেবের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তর:

"বহিপীরের মতোই উদ্দীপকের বাদশা মিয়ার শেষ পর্যন্ত বোধোদয় ঘটেছে।"- উক্তিটি যথার্থ।

‘বহিপীর’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর। তাকে কেন্দ্র করেই পুরো নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। বহিপীর অত্যন্ত বিচক্ষণ প্রকৃতির লোক। তবে তিনি ব্যক্তিস্বার্থকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ধর্মের লেবাস ধরে অধর্মের কাজ তিনি করে চলেছেন। তাহেরাকে তার অমতেই জোরপূর্বক বিয়ে করতে চেয়েছেন। কিন্তু তাহেরা এ বিয়েতে রাজি হয়নি। তাই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাক্রমে তাহেরা জমিদারের বজরায় বহিপীরের মুখোমুখি হয়। কিন্তু তাহেরা তার সিদ্ধান্তেই অটল থাকে। জমিদার পুত্র হাশেম আলি তাহেরাকে বিয়ে করার ঘোষণা দেয়। সে তাহেরাকে সাথে নিয়ে নতুন জীবনের পথে পাড়ি জমালে বহিপীর আর কোনো বাধা দেয়নি। বরং তাদের এ সিদ্ধান্তকে তিনি নির্দ্বধায় মেনে নেন।

উদ্দীপকের আরমান সাহেবের ছেলে মারাত্মক অসুখে ভুগতে থাকে। ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি প্রতিবেশী জোতদার বাদশা মিয়ার কাছে টাকা ধার চান। বাদশা মিয়া শর্ত সাপেক্ষে টাকা ধার দিতে চান। শর্ত হিসেবে তার ছেলের সাথে আরমান সাহেবের মেয়ের বিয়ে দিতে চান। কিন্তু আরমান সাহেবের মেয়ে এ বিয়েতে অনীহা প্রকাশ করে। তাই আরমান সাহেব মেয়ের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে শর্ত সাপেক্ষে টাকা ধার নিতে দ্বিমত পোষণ করেন। বাদশা মিয়া সবকিছু শোনার পর কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই একজন প্রতিবেশী হিসেবে আরমান সাহেবকে টাকা ধার দিতে চান।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশা মিয়ার শেষ পর্যন্ত ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীরের মতোই বোধোদয় ঘটেছে। ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর তাহেরাকে বিয়ে করার জন্য অনেক কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তাহেরাকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় জমিদার হাতেম আলিকে টাকা ধার দিতে চেয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে জমিদার হাতেম আলি টাকা ধার নিতে অস্বীকার করেন। অনেক ঘটনা ঘটার পর হাশেম আলি ও তাহেরা নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালে বহিপীর তা মেনে নেন। কারণ জোর করে সব কিছু পাওয়া যায় না। বহিপীরের মতো উদ্দীপকের বাদশা মিয়াও জোর করে তার ছেলের সাথে আরমান সাহেবের মেয়ের বিয়ে দেননি। বরং প্রতিবেশী হিসেবেই টাকা ধার দিতে চেয়েছেন। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।

2 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আরমান সাহেবের ছেলে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”