আরমান সাহেব বিয়ে করেছেন আট বছর হলো। কিন্তু তিনি এখনও নিঃসন্তান। সাত-পাঁচ ভেবে আরমান সাহেবের মা পিরের পানি পড়া আনতে যায়। এতে আরমান সাহেব রাগ করলে তাঁর মা বলেন, এরা আল্লাহর অলি, সকল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। বাবা চাইলে নিশ্চয়ই ঘর আলোকিত করে সন্তান আসবে।
প্রশ্নটি সঠিক নয়। ‘বহিপীর’ নাটকে হাতেম আলির বাল্যবন্ধুর নাম পাওয়া যায়। যার নাম আনোয়ারউদ্দিন।
পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতার কারণেই বহিপীর এই উক্তিটি করেছেন।
‘বহিপীর’ নাটকে দেখা যায়, তাহেরাকে বশে আনার জন্য বহিপীর নানা কৌশল গ্রহণ করেন। এমনকি পুলিশের ভয়ও দেখান। কিস্তু সবকিছু উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত হাশেম তাহেরার হাত ধরে চলে যাওয়ার পর বহিপীর শান্তভাব ধারণ করেন এবং বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতা তার মধ্যে সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই ইতিবাচক মনোভাবের অস্তরালে ছিল তার অসহায়ত্ব। কারণ বাড়াবাড়ি করলে তার পিরের মর্যাদা নষ্ট হতে পারে ভেবেই তিনি বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন।
উদ্দীপকের আরমান সাহেবের মা ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মভীরু। বজরায় একটা অচেনা মেয়েকে সে আশ্রয় দেয়। কিন্তু যখন সে জানতে পারে মেয়েটিকে জোর করে পিরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন সে তাকে পিরের কাছে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছে। সে মনে করে, পিরের যেকোনো কাজের বিরোধীতা করলে অভিশাপের মুখে পড়তে হবে। সে এটা বুঝতে চেষ্টা করে না যে, পির সাহেব অন্যায় করলে তা বৈধ হয় না। এখানে খোদেজার মধ্যে ধর্মভীরুতা ও কুসংস্কার পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের আরমান সাহেবের মা একজন অন্ধ ধর্মভীরু ও কুসংস্কারমনা নারী। তিনি ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন আট বছর হলো। কিন্তু এখনো ছেলে নিঃসন্তান। অনেক ভেবে তার মা পিরের পানি পড়া আনতে যায়। এতে আরমান সাহেব রাগ করলেও তার মায়ের অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস অটুট থাকে। তার মায়ের ভেদ-জ্ঞান যে, পিরেরা হলো আল্লাহর অলি। সকল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। পিরকে তার মা বাবা বলে সম্বোধন করেন। তার এমন মনোভাবে অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও কুসংস্কার ফুটে ওঠে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আরমান সাহেবের মা আলোচ্য নাটকের খোদেজার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিষয়টি ‘বহিপীর’ নাটকের পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি নয়।
‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজা সমাজে প্রচলিত সংস্কারে বিশ্বাসী একজন নারী। বিয়েকে তিনি ভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করেন। তাই বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়া হলেও খোদেজা চান, তাহেরা তার সঙ্গে জীবন কাটিয়ে দিক। তিনি মনে করেন, পিরের কথা শুনতে হয়। পিরের বদদোয়া নিতে হয় না। তা না হলে অমঙ্গল হয়।
উদ্দীপকে কুসংস্কার, অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ফুটে উঠেছে। আরমান সাহেবের মায়ের মনে দৃঢ় বিশ্বাস, পিরের পানি পড়া খেলে ছেলে সন্তানের মুখ দেখবে। পির বাবা চাইলে নিশ্চয়ই ঘর আলোকিত করে সন্তান আসবে। এমন বিশ্বাস ‘বহিপীর’ নাটকেও বিদ্যমান।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ‘বহিপীর’ নাটকের বিষয়-পরিসর ব্যাপক ও বিস্তৃত। কারণ এ নাটকের হাতেম আলি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। তাহেরা একটি প্রতিবাদী চরিত্র। হাশেম আলি বহিপীরের বিপরীত চরিত্র। জমিদার গিন্নি অত্যন্ত সাদামাটা একটি চরিত্র। এসবের আলোচনা উদ্দীপকে নেই। তাই যথার্থই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘বহিপীর’ নাটকের পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি নয়।
