A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘অভির হাতে ডিএসলার…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: বরিশাল বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

অভির হাতে ডিএসলার ক্যামেরা, মাথায় ক্যাপ পরে রহিম আলীর কাছে যায়। ‘ও রহিম মিয়া, মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছো, মেয়ের বয়স কত বলো।’ আপনারা কারা? ‘আমরা মিডিয়ার লোক, সব রেকর্ড করে খবরে দেখাবো, পুলিশকে সব দেব।’ করিমন বলে ওঠে, ‘আমি বিয়ে করব না। আপনারা আমাকে বাঁচান।’ রহিম বলে, ‘বাবা আমি গরিব মানুষ। আমি না বুঝে এ কাজ করছিলাম। এখন বুঝতে পেরেছি।’ করিমনের অসম বিয়ে ভেঙে যায়। অভিরা চলে যায়।

উত্তর:

এ ঘরে জোঁকের মতো লেগে আছে হাশেম আলি।

উত্তর:

রিস্থিতি মেনে নেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতার কারণেই বহিপীর এই উক্তিটি করেছেন।

‘বহিপীর’ নাটকে দেখা যায়, তাহেরাকে বশে আনার জন্য বহিপীর নানা কৌশল গ্রহণ করেন। এমনকি পুলিশের ভয়ও দেখান। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত হাশেম তাহেরার হাত ধরে চলে যাওয়ার পর বহিপীর শান্তভাব ধারণ করেন এবং বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতা তার মধ্যে সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই ইতিবাচক মনোভাবের অন্তরালে ছিল তার অসহায়ত্ব। কারণ বাড়াবাড়ি করলে তার পিরের মর্যাদা নষ্ট হতে পারে ভেবেই তিনি বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের করিমন ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রকে নির্দেশ করে।

‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম প্রতিবাদী চরিত্র হলো তাহেরা। তাহেরার বাবা-মা বহিপীরের অন্ধভক্ত হলেও তাহেরা বহিপীরের অন্ধভক্ত নয়। তাহেরার বাবা-মা তাহেরাকে বহিপীরের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তাহেরা সে বিয়েতে রাজি ছিল না। তাই সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। জমিদার পত্নী খোদেজা তাকে বজরায় আশ্রয় দিয়েছিল। খোদেজা বহিপীরের হাতে তাহেরাকে তুলে দিতে চেয়েছিল। এমতাবস্থায় তাহেরা সেখানেও প্রতিবাদ জানায়। হাশেম ব্যতীত সবাই তাহেরার বিপক্ষে থাকলেও তাহেরা অনমনীয় ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকের রহিম আলী তার মেয়ে করিমনের বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু করিমনের এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। করিমন এ বিয়েতে রাজি নয়। তবুও তার বাবা জোর করেই তার বিয়ে দিতে চায়। এখবর শুনে সাংবাদিক অভি ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বাল্যবিয়ের এ খবর ভিডিয়ো করে মিডিয়াতে প্রকাশ করতে চায়। এমনকি পুলিশকেও সবকিছু জানাতে চায়। এতে রহিম আলী তার ভুল বুঝতে পারে। ফলে করিমনের অসম বিয়ে ভেঙে যায়। ‘বহিপীর’ নাটকেও তাহেরার প্রতিবাদী মনোভাবের কারণে বহিপীরের সাথে অসম বিয়ে হয়নি। উদ্দীপকের করিমন ও ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার অসম বিয়ে ভেঙে গেছে। তাই আমরা বলতে পারি উদ্দীপকের করিমন ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা চরিত্রকে নির্দেশ করে।

উত্তর:

উদ্দীপকের অভি এবং ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম উভয়ের চিন্তাচেতনা একই ধারায় উৎসারিত-উক্তিটি যথার্থ।

‘বহিপীর’ নাটকের একটি আত্মসচেতন চরিত্র হলো হাশেম আলি। হাশেম আলি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তার মনের মধ্যে কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার নেই। সে বহিপীরের কর্মকাডকে সমর্থন করেনি। বরং বহিপীরের অপকর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বহিপীর জোরপূর্বক তাহেরাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাহেরা উক্ত বিয়েতে রাজি ছিল না। এজন্য হাশেম বহিপীরের হাত থেকে তাহেরাকে রক্ষা করে। তাহেরার অসম বিয়ে ভেঙে দিয়ে তাহেরাকে বিপদমুক্ত করে।

উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, রহিম আলি তার নাবালিকা মেয়ে করিমনের বিয়ে ঠিক করে। যা সমাজে বাল্যবিয়ে হিসেবে পরিচিত। রহিম আলি তার মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে দিতে চেয়েছিল। এমতাবস্থায় সেখানে সাংবাদিক অভি হাজির হয়। অভি এ অসম বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য রহিম আলিকে অনুরোধ জানায়। আর তা না হলে এ খবর পুলিশসহ মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিতে চায়। এতে রহিম আলি তার ভুল স্বীকার করে বিয়ে বন্ধ করে। ফলে করিমন অসম বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।

উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের অভি এবং ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম উভয়ের চিন্তাচেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। তারা দুজনেই অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। অসম বিয়ের হাত থেকে অসহায় মেয়ে দুটিকে বাঁচিয়েছে। তারা দুজনেই সমাজসচেতন ও প্রতিবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। প্রক্ষাপটগত কিছু ভিন্নতা থাকলেও তাদের উদ্দেশ্য ও কর্মতৎপরতা মূলত এক ও অভিন্ন। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তারা উক্ত কর্ম সম্পাদন করেছে। কাজেই উদ্দীপকের অভি ও ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেমের চিন্তাধারা মূলত একই ধারায় প্রবাহিত। তাই আমরা বলতে পারি, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘অভির হাতে ডিএসলার…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”