মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে মাজেদা স্থানীয় কলেজে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ঘরে সৎমা তার বাবাকে শুধু বিয়ের জন্য ঘটক ডাকার চাপ দেয়। মাজেদা লেখা-পড়া করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। এ অবস্থায় সে গ্রামের সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা নিটোলের সহযোগিতায় বাবা-মাকে বিয়ে থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়।
বহিপীর বইয়ের ভাষায় কথা বলে।
"খোদা ইচ্ছা করিলে পড়ন্ত ঘরও ঠ্যাকা দিয়ে দাঁড় করাইয়া রাখা যায়।"- বহিপীরের এ উক্তিতে আল্লাহ যে সর্বশক্তিমান এবং তার ওপর ভরসা করলে মিথ্যার মতো বড়ো বিপদ থেকেও যে মুক্তি পাওয়া যায় সেই বিশ্বাসী মনোভাব ফুটে উঠেছে।
খোদা যা করেন তা মঙ্গলের জন্যই করেন। হাতেম আলিকে উদ্দেশ্য করে বহিপীর একথা বলেছেন। হাতেম আলি যে মিথ্যা কথা বলেছে তার জন্য সে মাফ চাইছে বহিপীরের কাছে। বলেছে সে অসুস্থ, দাওয়াই করার জন্য শহরে এসেছে। সে কথা সত্যি নয়। তবে অসুখের ভান না করে তার উপায় ছিল না। কিন্তু এখন সব শেষ হয়েছে। আসল কথাটা আর মিথ্যা কথা দিয়ে ঠ্যাকা দেওয়া যায় না। তাই সান্ত্বনা স্বরূপ বহিপীর তাকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
উদ্দীপকের নিটোলের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বহিপীর’ নাটকে হাশেম আলি জমিদারপুত্র। সে এই নাটকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সে অত্যন্ত শান্তভাবে বহিপীরের কূটচালকে মোকাবিলা করেছে এবং পরিশেষে জয়লাভ করেছে। জমিদারপুত্র হলেও বৈষয়িক বিবেচনা তার কাছে কম। জমিদারি নিয়ে সে ভাবে না। সে বিএ পাশ। উদ্দীপকের নিটোলও শিক্ষিত ছেলে। পিতার জমিদারি চলে গেলে এবং প্রেস বসাতে না পারলেও সে চিন্তিত নয়। সে ভাবে, যখন পড়ালেখা করেছে তখন একটা কিছু হয়ে যাবে।
উদ্দীপকের নিটোল বাস্তববাদী একটি ছেলে। সে যেমন শিক্ষিত তেমনি সচেতন। সে অন্যের উপকার করতে সদাতৎপর। সে আধুনিক মননের একটি ছেলে। মাজেদা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। এখনই সৎমা তাকে বিয়ে দিতে চায়। বাবাকে ঘটক ডাকার কথা বলে। কিন্তু মাজেদা লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। তার এই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জাগিয়েছে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা নিটোল। নিটোল তার বাবা-মাকে বুঝিয়েছে যাতে তাকে এখনই বিয়ে না দিয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ দেয়। এক পর্যায়ে নিটোলের কথা তারা রাখে। নিটোল যেমন আধুনিক ও মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন ছেলে তেমনি ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলি এক সহায়ক চরিত্র। সে বজরায় আগত মেয়েটির সমস্যার প্রকৃতি উপলব্ধি করে। সে তার প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন হয়ে পড়ে। মেয়েটি আত্মহনন করতে গেলে সে তাকে রক্ষা করে। এভাবে উদ্দীপকের নিটোলের সাথে হাশেম আলি চরিত্রের সাদৃশ্য ফুটে উঠে।
"উদ্দীপকের মাজেদা 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার চেয়ে অধিকতর আধুনিক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বহিপীর' নাটকের তাহেরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাকে কেন্দ্র করেই এ নাটকের গঠনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে। তার স্বভাবে দুটি দিক ফুটে উঠেছে। একটি মানবিক অন্যটি সে অনমনীয়। তাকে বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক বলা যায়।
উদ্দীপকের মাজেদা আধুনিক মননশীল নারী। তাকেও নারী জাগরণের প্রতীক বলা যায়। সে মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। সে স্থানীয় কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। সে পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। ঘরে তার সৎমা। এই মা তার বাবাকে চাপ দেয় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু মেয়ে এখনই বিয়ে করবে না। অন্যদিকে তাহেরাকে বিয়ে দিলে সে পালিয়ে যায়। সে অসম অন্যায় বিয়ে মেনে নেয়নি।
'বহিপীর' নাটকের তাহেরা ততটা আধুনিক হতে পারেনি যতটা পেরেছে উদ্দীপকের মাজেদা। কারণ যখন সে জমিদারের অসহায়ত্বের কথা জেনেছে তখনই বৃদ্ধ পিরের সাথে যেতে রাজি হয়েছে। তাহেরার মধ্যে ঐ শিক্ষা নেই যা মাজেদার মধ্যে আছে। তাহেরা যদিও মানবিকতার পরিচয় দেওয়া একটি অনমনীয় চরিত্র তথাপি আধুনিকতায় এগিয়ে আছে মাজেদা। কারণ তার একটা স্বপ্ন-সাধ আছে আর সেটা হলো পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, তারপর বিয়ে করা। এদিকটা তাহেরার মাঝে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মাজেদা নাটকের তাহেরার চেয়ে অধিকতর আধুনিক।
