শামীম চৌধুরীর এক সময় বিশাল শান-শওকত ও প্রভাবপ্রতিপত্তি ছিল। ধনে-জনে পরিপূর্ণ ছিল চৌধুরী বাড়ি। কিন্তু অর্থ ও নীতি-নৈতিকতার যথার্থ ব্যবহারের অভাব ছিল। ফলে কালের পরিক্রমায় সবই শেষ হয়ে যায়। এখন শুধু চৌধুরী নামটাই অবশিষ্ট রয়েছে।
‘বহিপীর’ নাটকটি প্রথম ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
জমিদার পত্নী খোদেজা পিরের বদদোয়াকে ভয় পায় বলে খোদেজা তাহেরাকে পিরের হাতে তুলে দিতে চায়।
জমিদার পত্নী খোদেজা সহজ-সরল ও ধার্মিক। পিরের প্রতি তার অগাধ আস্থা ছিল। পির অলৌকিক শক্তির অধিকারী বলে খোদেজা বিশ্বাস করতেন। এমন অন্ধবিশ্বাসের কারণে পিরের বদদোয়ায় ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। একারণে পিরের বদদোয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খোদেজা তাহেরাকে পিরের হাতে তুলে দিতে চায়।
বহুদিনের প্রভাব-প্রতিপত্তি হারানোর আশঙ্কার দিক থেকে উদ্দীপকের শামীম চৌধুরী ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘বহিপীর’ নাটকে হাতেম আলি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। খাজনা বাকি পড়ার কারণে তার জমিদারি নিলামে উঠেছে। জমিদারি রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। এতদিনের জমিদারি হারানোর কথা ভেবে তার পরিবারের সদস্যদের মন ভেঙে যায়।
উদ্দীপকের শামীম চৌধুরীর পরিবারও একসময় বেশ প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাদের দশা শ্রীহীন। সম্পদ বলতে তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। শামীম চৌধুরীর মনে তাই জেঁকে বসে দুশ্চিন্তা। ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলির পরিবারকেও এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে দেখা যায়।
‘‘উদ্দীপকটি ‘বহিপীর’ নাটকের সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’’- উক্তিটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরকে কেন্দ্র করে। এ নাটকে বহিপীর স্বার্থান্ধ ও কূটকৌশলী চরিত্র। বৃদ্ধ বয়সে মুরিদের অল্পবয়সি কন্যা তাহেরাকে বিয়ে করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। বিয়ের রাতে পালিয়ে গিয়ে জমিদার হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। বহিপীর হাতেম আলিকে সাহায্যের বিনিময়ে তাহেরাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত শামীম চৌধুরীর এক সময় প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। ধন-সম্পদে পূর্ণ ছিল, কিন্তু কালের পরিক্রমায় সব শেষ হয়ে যায়। এখন শুধু চৌধুরী নামটিই অবশিষ্ট রয়েছে। ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। তার জমিদারি রক্ষা করার জন্য বন্ধুদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। উদ্দীপকের শামীম চৌধুরীরও ধন-দৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে টান পড়েছে। এখন শুধু চৌধুরী নামটিই অবশিষ্ট আছে। এই দিকটি ছাড়া উদ্দীপকের সাথে আর কোনো মিল নেই।
‘বহিপীর’ নাটকের কাহিনি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। ‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীরের সাথে তাহেরার বিয়ে, জমিদারের বজরায় তাহেরা ও বহিপীরের আশ্রয়, হাতেম আলির জমিদারি নিলামে ওঠার বিষয়, হাশেম আলি তাহেরাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি নানা অনুষঙ্গ উদ্দীপকে অনুপস্থিত রয়েছে। তাই উদ্দীপকটি ‘বহিপীর’ নাটকের সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে পারেনি। একটি খণ্ডিত অংশকে ধারণ করেছে মাত্র।
