কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী শিরিন। তার বাবা-মা একই মহল্লার ধনাঢ্য রহিম মিয়ার প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেন। শিরিন বেঁকে বসে, সে কিছুতেই এখন বিয়ে করবে না। আগে পড়াশোনা শেষ করে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু তার বাবা-মা বিয়ের জন্য এমন পাত্রকে হাতছাড়া করতে চান না, শিরিনের অমতে জোর করেই বিয়ে দিতে চান। তাই শিরিন নিরুপায় হয়ে ৯৯৯-এ কল করে প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজের বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হয়।
নৌকার সঙ্গে বজরার ধাক্কা লেগেছিল।
পুলিশে খবর দিলে আইনি ঝামেলা হতে পারে ভেবে পির সাহেব মুরিদকে পুলিশে খবর দিতে নিষেধ করেন।
বহিপীর তার এক মুরিদের কন্যা তাহেরাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তাহেরা অসম বিয়ে মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তখন তাহেরার বাবা পুলিশে খবর দিতে চান। তবে পির সাহেব মুরিদকে পুলিশের নিকট খবর দিতে নিষেধ করেছিলেন। কেননা, পুলিশে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা তিনি চান না।
উদ্দীপকের শিরিন চরিত্রের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বহিপীর’ নাটকের এক প্রতিবাদী চরিত্র তাহেরা। এক বিচারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কেননা তাকে কেন্দ্র করেই নাটকটির ঘটনাপ্রবহ আবর্তিত হয়েছে। সে মাতৃহারা, তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা ও সৎমা তাকে বৃদ্ধ পিরের সাথে বিয়ে দিলে তা সে মেনে নেয়নি বরং পালিয়েছে। দুঃসাহসের সাথে শহরবাসী বজরায় চড়ে বসেছে। আবার সে মানবিকতার পরিচয়ও দিয়েছে। উদ্দীপকের শিরিনও একটি প্রতিবাদী চরিত্র। তার কথায় তাই ফুটে উঠেছে। উভয়ের বিয়ে এবং প্রতিবাদী মনোভাবে সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের শিরিন কলেজে পড়ে। তার বাবা-মা তাকে এখনই বিয়ে দিতে চায়। বিয়ে ঠিক হয় একই মহল্লার ধনী লোক রহিম মিয়ার প্রবাসী ছেলের সাথে। পাত্র বিদেশে থাকে আবার সহায়-সম্পত্তিও অনেক। এমন বিত্তশালী পাত্রকে শিরিনের বাবা-মা হাতছাড়া করতে চায় না। কিন্তু শিরিন রাজি হয় না। সে কিছুতেই এখন বিয়ে করবে না। সে আগে পড়ালেখা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। এমন মানবিক ভাবনা ও প্রতিবাদী চেতনা নাটকের তাহেরার মধ্যেও লক্ষণীয়।
"উদ্দীপকের শিরিনের পদক্ষেপই যেন 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার মূল চেতনা।"- উক্তিটি যৌক্তিক।
'বহিপীর' নাটকে বর্ণিত পুণ্য লাভের আশায় তাহেরার বাবা ও সৎমা তাহেরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পির সাহেবের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এটি মেনে নিতে পারেনি বলে তাহেরা পালিয়ে যায় এবং হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। এখানে তার প্রতিবাদী দিকটি প্রস্ফুটিত হয়।
উদ্দীপকের শিরিন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষিত মেয়ে। তার ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে। ধনীর দুলালের সাথে তার বিয়ে ঠিক করা হলে তাতে সে রাজি হয়নি। সে বাবা-মাকে সব জানিয়ে দিয়েছে এখন সে বিয়ে করবে না। সে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। এমন দৃঢ় মনোবল আর প্রতিবাদী দিকটি তাহেরার মধ্যেও বিদ্যমান।
'বহিপীর' নাটকের তাহেরাকে বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক চরিত্র বলা হয়। সে জমিদারের অসহায়ত্বের কথা জেনেছে এবং বৃদ্ধর সাথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাচ্ছে। এখানে সে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের শিরিনের এমন মনোভাব ফুটে ওঠেনি। শিরিন এখনই বিয়ে করবে না; বাবা-মা তার কথায় রাজি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে ৯৯৯-এ কল করে প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজের বিয়ে বন্ধ করে। এটি তার প্রতিবাদী চেতনা, মানবিক নয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিরিনের পদক্ষেপ তাহেরার সাথে অনেকাংশেই মিলে যায়। যে কারণে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার মূল চেতনা হয়ে উঠেছে।
