ভরদুপুরে দিঘির ঘাটে জল আনতে গিয়ে মূর্ছা যায় লিলি। তার বাবা-মার বিশ্বাস, লিলির মধ্যে জিন-ভূতের আছর পড়েছে, শীঘ্রই কোনো কবিরাজের কাছে নিতে হবে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করে লিলির বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ভাই আনাফ। সে লিলিকে নিকটতম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে ডাক্তার দেখালে সুস্থ হয়ে ওঠে। মূলত লিলির শারীরিক দুর্বলতার জন্য এমনটি হয়েছিল।
বহিপীরের মতে, একাকী চুপচাপ বসে থাকলে মনে অশান্তি হয়।
জমিদারি বাঁচানোর কোনো উপায় না পাওয়ায় জমিদার হাতেম আলির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
জমিদার হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠতে বসেছিল। জমিদারি রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার নিকট ছিল না। তিনি বড়ো আশা করে বাল্যবন্ধুর নিকট টাকা ধার চান। কিন্তু তার বাল্যবন্ধু টাকা ধার দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে যান। জমিদারি রক্ষা করতে তিনি ব্যর্থ হয়ে পড়েন। আর এজন্যই জমিদার হাতেম আলির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
আধুনিক চিন্তাধারার দিক থেকে উদ্দীপকের আনাফ ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেমের মাঝে চেতনাগত সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'বহিপীর' নাটকের জমিদারপুত্র হাশেম আলি যুক্তিবাদী, আধুনিক ও মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ। মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধের বিষয়টি তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে তাহেরার সমস্যার প্রকৃতি অনুভব করেছে এবং বহিপীরের দুরভিসন্ধি থেকে তাকে মুক্ত করেছে।
উদ্দীপকের লিলি পুকুর থেকে পানি আনতে গিয়ে মূর্ছা যায়। এতে সকলে বিশ্বাস করে লিলির ওপর জিন-ভূতের আছর পড়েছে। বাড়ির সবাই কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁক করার কথা বললে এর বিরোধিতা করে লিলির বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভাই আনাফ। অন্যদের অযৌক্তিক পরামর্শকে গুরুত্ব না দিয়ে সে লিলিকে ডাক্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার এ মানসিকতা দেখে বলা যায়, 'বহিপীর' নাটকের হাশেমের মতো সেও আধুনিক চিন্তাধারার অধিকারী। আর এখানেই তাদের সাদৃশ্য।
"উদ্দীপকের লিলির বাবা-মায়ের লালিত অন্ধবিশ্বাস থেকে সমাজকে মুক্ত করাই 'বহিপীর' নাটকের নাট্যকারের মূল উদ্দেশ্য।
'বহিপীর' নাটকে নাট্যকার পিরপ্রথাকে কেন্দ্র করে মানুষের অন্ধবিশ্বাসের দিকটিকে মূর্ত করে তুলেছেন। যেখানে বৃদ্ধ পিরকে সন্তুষ্ট করতে তাহেরার বাবা-মা তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই তাহেরাকে সেই পিরের সাথে বিয়ে দিতে চায়। শুধু তাই নয়, অনুচিত জেনেও জমিদার পত্নী খোদেজা পিরের বদদোয়ার ভয়ে তাহেরাকে পিরের সাথে সংসার কারার পরামর্শ দেয়।
উদ্দীপকে লিলি নামের এক মেয়েকে ঘিরে তার বাবা-মায়ের কুসংস্কারাচ্ছন্নতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। একদিন দুপুরবেলায় দিঘিতে জল আনতে গিয়ে সে মুর্ছা গেলে তার বাবা-মা একে ভূতের কারসাজি মনে করে কবিরাজ ডাকতে চায়। এমতাবস্থায় লিলির বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভাই আনাফ এর বিরোধিতা করে এবং তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার এমন কর্মকান্ড অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আলোচ্য নাটকের হাশেমের ভূমিকাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
'বহিপীর' নাটকে নাট্যকার তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের চিত্র তুলে ধরে এর বিপরীতে যুক্তিবাদী ও শিক্ষিত হাশেম আলিকে দাঁড় করিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে নাট্যকার মূলত সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের নিরর্থকতা তুলে ধরে এমন অবস্থার অবসান কামনা করেছেন।
উদ্দীপকের লিলির বাবা-মায়ের মানসিকতাও যেন 'বহিপীর' নাটকের অন্ধবিশ্বাসী চরিত্র তাহেরার বাবা-মা ও জমিদার পত্নী খোদেজার অনুরূপ। আলোচ্য নাটকটিতে নাট্যকার যাদের ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণাকে ভেঙে যুক্তিবাদকে প্রতিষ্ঠা করেন। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
