মনির সাহেব একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। করোনাকালে তার ব্যবসায়ে ব্যাপক লোকসান হয়। তিনি ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসায়ের কাজে লাগিয়েছেন। ব্যাংক লোন সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় তার পাঁচ তলা বাড়িটি নিলামে উঠে। স্ত্রী-পুত্র ও কন্যাদের নিয়ে তিনি ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েন। কোনো উপায় বের করতে না পেরে, শেষে তিনি তার মামাতো ভাই হাবিবের নিকট টাকা ধার চান। কিন্তু হাবিব বলে যদি সে তার পাঁচ তলা বাড়ির অর্ধেক তার নামে লিখে দেয়, তাহলে সে তাকে টাকা ধার হিসেবে দেবে। একথা শুনে মনির সাহেব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
জমিদারের বজরা ডেমরা ঘাটে থেমেছিল।
হাশেমের বাবা তথা হাতেম আলির জমিদারি রক্ষার স্বার্থে তাহেরা শেষ পর্যন্ত বহিপীরের সাথে যেতে রাজী হয়।
তাহেরা পালিয়ে বাঁচতে গিয়ে জমিদারের বজরায় আশ্রয় পায়। কিছুটা আশার সঞ্চার হয় প্রাণে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ একই বজরায় আশ্রয় পায় বহিপীরও। স্ত্রীকে উদ্ধারে বহিপীর একপর্যায়ে বজরার সবাইকে পক্ষে পেলেও জমিদারপুত্র হাশেম তাহেরার পক্ষ নেয়। অচেনা অজানা এ লোকটির এমন আচরণে তার প্রতিও এক ধরনের টান বা দায়িত্ববোধ তাহেরার মধ্যে জন্ম হয়। তাইতো হাতেম আলি তথা হাশেমের বাবার জমিদারি রক্ষার প্রয়োজনে তাহেরা তাই বৃদ্ধ বহিপীরের সঙ্গে যেতে চায়।
উদ্দীপকের মনির সাহেবের বাড়ি হারানোর ঘটনার সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠার ঘটনা মিলে যায়।
'বহিপীর' নাটকের হাতেম আলি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। খাজনা বাকি পড়ার কারণে সূর্যাস্ত আইনে হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠে। পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়বে বলে তিনি বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখেন। নানাভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করতে থাকেন। একপর্যায়ে চিকিৎসার অজুহাতে শহরে যান বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার করতে। কিন্তু তিনি টাকা সংগ্রহে ব্যর্থ হন। হাতেম আলি অনেকটা দুশ্চিস্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। দিশেহারা হয়ে ভাবতে থাকেন কীভাবে জমিদারি রক্ষা করবেন। ঠিক এমন সময় কাহিনিতে আবির্ভাব ঘটে বহিপীরের।
অন্যদিকে উদ্দীপকের মনির সাহেব একজন ব্যবসায়ী। ব্যাংকের লোনের টাকায় ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ভয়াবহ করোণাকালে তার ব্যবসার ব্যাপক লোকসান হয়। সময়মতো ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তার পাঁচতলা বাড়িটি নিলামে ওঠে। নিরুপায় হয়ে তিনি মামাতো ভাই হাবিবের শরণাপন্ন হন। মামাতো ভাই হাবীব মনির সাহেবের পাঁচ তলা বাড়ির অর্ধেক লিখে দিতে বলেন। তবেই সে টাকা দিবে। একথা শুনে মনির সাহেব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
"উদ্দীপকের হাবিব এবং ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীরের কূটকৌশল একসূত্রে গাঁথা"- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ ধর্মব্যবসার আড়ালে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতো। বছরান্তে মুরিদদের বাড়িতে ঘুরতে যেতেন। তখন মুরিদরা স্বর্বস্ব দিয়ে বহিপীরের সেবা করতেন। তেমনিসূত্রে এক মুরিদ তার কন্যা তাহেরাকে জোর করে বৃদ্ধ পিরের সাথে বিয়ে দেন। তাহেরা এটা মানতে না পেরে শহরগামী বজরায় আশ্রয় নেয়। ঘটনাক্রমে বহিপীরও সেই বজরায় আশ্রয় পায়। কাহিনির আবর্তে বহিপীর জমিদারি নিলামে ওঠা হাতেম আলির জমিদারি নিলামে ওঠা ঠেকানোর বিনিময়ে তাহেরাকে ফেরত পেতে চান। এক্ষেত্রে তিনি ভয়ানক এক কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত জমিদার হাতেম আলির উদারতায় আবিষ্ট হয়ে বহিপীরেরও চেতনাবোধ জাগ্রত হয়।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী মনির সাহেব ভয়াবহ করোনার কারণে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হন। লোনের টাকায় ব্যবসা করছিলেন বিধায় মনির সাহেব ভয়ানক বিপদে পড়ে যান। তার পাঁচ তলা বাড়িটি এজন্য নিলামে ওঠে। স্ত্রী-পুত্র কন্যাদের নিয়ে তিনি খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। নিতান্ত নিরুপায় হয়ে মামাতো ভাই হাবীবের শরণাপন্ন হন। অনেক আশা নিয়ে তার কাছে গেলেও ভয়ানক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। মামাতো ভাই অর্থের বিনিময়ে তার পাঁচ তলা বাড়ির মালিকানা দাবী করেন। যেটা একটা ভয়াবহ কূটকৌশলের অংশ।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হাবিব ও বহিপীর নাটকের বহিপীরের কূটকৌশল একই সূত্রে গাঁথা।
