শরীফ সাহেবের স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন, তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজাসহ দীর্ঘদিন মসজিদ ও এতিমখানায় সাহায্য করে আসছেন। প্রয়োজনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। শরীফ সাহেবের কার্যকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়ে পিতৃহীন বালিকা রেশমা তাকে স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সুখী হতে চায়।
সূর্যাস্ত আইন ১৭৯৩ সালে প্রণীত হয়।
তাহেরাকে ভর্তসনা করতে খোদেজা তাহেরার উক্তিটি করেন।
বহিপীরের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ায় তাহেরা পালিয়েছিল। সে জানত না কোথায় পালাবে, শুধু জানত বাড়ি ছেড়ে তাকে পালাতে হবে। এই দুঃসাহস তার আশ্রয়দাতা খোদেজাকে আশ্চর্যান্বিত করে। মেয়ে মানুষ হয়েও ভয়হীনভাবে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল বলে খোদেজা তাহেরাকে 'শাবাশ মেয়ে তুমি' বলেছেন।
সমস্ত প্রক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘বহিপীর’ নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করে না।
‘বহিপীর’ নাটকটি আবর্তিত হয়েছে এক ভন্ড পিরকে নিয়ে। তিনি সারা বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা মুরিদদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ান। তিনি মুরিদদের কাছ থেকে এসময় প্রয়োজনমতো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি কন্যার বয়সী এক মাতৃহীন কিশোরীকে বিয়ে করেন এবং ওই কিশোরী এ বিয়ে অস্বীকার করে পালিয়ে গেলে, তাকে পাওয়ার জন্য তার পিছু নেন। ঘটনাচক্রে দুজনেই এক ক্ষয়িষ্ণু জমিদারের বজরায় আশ্রয় পান। এ বজরায় অবস্থানরত জমিদার পুত্র ওই কিশোরীর করুণ কাহিনি শুনে তার পক্ষ নেয় এবং কিশোরীকে পিরের লালসার হাত থেকে উদ্ধারের পণ করে।
উদ্দীপকের শরীফ সাহেব স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজাসহ দীর্ঘদিন যাবত মসজিদ ও এতিমখানায় সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন। শরীফ সাহেব প্রয়োজনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তার এসব মানবীয় গুণাবলি দেখে মুগ্ধ হয়ে পিতৃহীন বালিকা রেশমা তাকে বিয়ে করতে চায়। অপরদিকে ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর একজন মতলববাজ ও স্বার্থম্বেষী মানুষ। তাছাড়া ‘বহিপীর’ নাটকের কাহিনি গড়ে উঠেছে বাংলার পির সম্প্রদায়ের ভন্ডামি নিয়ে, যা কোনোভাবেই উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘বহিপীর’ নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করে না।
‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীরের মানসিকতা উদ্দীপকের শরিফ সাহেবের মতো হলে নাটকের পরিণতি ভিন্ন হতো।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর বইয়ের ভাষায় কথা বলা একজন কূটকৌশলী ও চতুর ধর্ম ব্যবসায়ী। নাটকে তার ধূর্ততার নানা কাহিনি লক্ষ করা যায়। বহিপীর দীর্ঘদিন বিপত্নীক থেকে কিশোরী তাহেরার অমতে তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তাহেরা নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া এ বিয়ে মেনে নিতে পারে না। তাই সে উদ্দেশ্যহীন পালিয়ে যায়। ঘটনাক্রমে বহিপীর জমিদারের বজরায় তাহেরাকে খুঁজে পান এবং বিভিন্ন কৌশলে তাকে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে পিরের নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেছে।
উদ্দীপকের শরীফ সাহেব স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন। তিনি গ্রামে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকেন। তিনি প্রয়োজনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। শরীফ সাহেবের এসব কর্মকান্ড দেখে মুগ্ধ হয়ে পিতৃহীন বালিকা রেশমা তাকে স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সুখী হতে চায়।
‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীর একজন বৃদ্ধ মানুষ। প্রায় চৌদ্দ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। তাহেরার বাবার প্রস্তাবে রাজি হয়ে তিনি তাহেরাকে বিয়ে করতে সম্মত হন। কিন্তু বৃদ্ধ পিরকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাহেরা পালিয়ে গেলে পির তার পিছু নেয়। তারপর ঘটনাচক্রে পির সাহেব তাহেরার সন্ধান পেলে বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তিনি তাহেরাকে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। কিস্তু উদ্দীপকের শরীফ সাহেব বহিপীরের সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতার। বহিপীর যদি চারিত্রিক সৌন্দর্যে শরীফ সাহেবের মতো হতেন, তাহলে তিনি তাহেরাকে তার অমতে বিয়ে করতেন না। কিংবা তাহেরা পালিয়ে গেলেও তিনি তার পিছু নিতেন না এবং তাকে ফিরে পেতে কুটকৌশল অবলম্বন করতেন না। আর তাহলে নাটকের কাহিনি ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হতো।
