A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আলী সাহেব বিয়ে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আলী সাহেব বিয়ে করেছেন দশ বছর হলো। কিন্তু তিনি এখনও নিঃসন্তান। সাত-পাঁচ ভেবে আলী সাহেবের মা ফকিরের কাছ থেকে পানি পড়া আনেন। এতে আলী সাহেব রাগ করলে তাঁর মা বলেন, এরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, সকল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। বাবা চাইলে নিশ্চয়ই ঘর আলোকিত করে সন্তান আসতে পারে। কিন্তু আলী সাহেব পড়া পানি না খেয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যান।

উত্তর:

‘আমাকে অকৃতজ্ঞ ভাববেন না’- উক্তিটি তাহেরার।

উত্তর:

ক্ষয়িষ্ণু জমিদার হাতেম আলির জমিদারি চলে গেলে তার অনেক কষ্ট হবে ভেবে ছেলে হাশেম দুই হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে শুরু করে।

হাশেম আলির বাবা হাতেম আলি জমিদারি নিলামে উঠার কথা গোপন করে অসুস্থতার করা বলে শহরে আসেন বন্ধুর কাছে থেকে টাকা ধার নিয়ে জমিদারি রক্ষা করতে। কিন্তু বন্ধু যখন টাকা দিয়ে অস্বীকৃতি জানায় তখন হাতেম আলি নিরূপায় হয়ে পরিবারের একমাত্র ছেলে হাশেমকে সত্য কথা বলে দেয়। একথা শুনে হাশেম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। হাশেমের এ কান্না বাবার মনের অবস্থা চিন্তা করে। হাশেম ভাবে জমিদারি চলে গেলে তার বাবার কি পরিণতি হবে, কতটা কষ্ট পাবে তার বাবা এসব চিন্তা করেই হাশেম দুই হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে শুরু করে।

উত্তর:

উদ্দীপকে বর্ণিত আলী সাহেবের মা ‘বহিপীর’ নাটকের জমিদার পত্নী খোদেজা চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘বহিপীর’ নাটকে তৎকালীন সময়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে পিরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থার বিষয়টি ফুটে উঠছে। তাহেরার মা-বাবা থেকে শুরু করে হাশেমের মা-বাবা পর্যন্ত সবাই পিরের মাহাত্ম্যে বিশ্বাসী। তাদের দৃষ্টিতে পির আল্লাহর নেক বান্দা। তারা ইচ্ছা করলে যা খুশি তা-ই করতে পারে। তাদের বদ দোয়া নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন কাটানো যায় না। তারা যাদের প্রতি সদয় থাকেন, তারা সৌভাগ্যবান। তাই তাদের মন রক্ষার্থে, তাদের খুশি করতে সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেও প্রস্তুত। এজন্য খোদেজা চান তাহেরা পিরের কাছে ফিরে যাক এবং এ নিয়ে হাশেমের প্রতি পির যেন অসন্তুষ্ট না হন। তিনি তাহেরাকে বিভিন্ন ভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেন, সে যেন পিরের প্রতি আস্থাশীল থাকে।

উদ্দীপকে আলী সাহেবের মা পিরের প্রতি চরম বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন পির আল্লাহর প্রিয় বান্দা, সকল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন তারা। তাই তাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন তিনি। তিনি মনে করেন, তাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে এবং এ ক্ষমতাবলে তারা অনেক কিছু করতে পারেন। এ বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তিনি আলীকে উদ্বুদ্ধ করেন পিরের কাছে যেতে। তিনি মনে করেন, পির যদি চায় তাহলে আলী সাহেব হয়ত সন্তানের পিতা হতে পারবেন। তাই বলা যায়, নাটকের জোহরা বেগমের সাথে উদ্দীপকের আলী সাহেবে মা সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তর:

"পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের আলী সাহেব ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি একই চেতনায় উজ্জীবিত।"-মন্তব্যটি যথার্থ।

'বহিপীর' নাটকে তৎকালীন সমাজের দুষ্ট ক্ষত পির প্রথা প্রসারের মারাত্মক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তখন আগাছার মতো অবাধ বিস্তার লাভকরেছিল পির প্রথা। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই আচ্ছন্ন ছিল পির প্রথার দুর্বোধ্য জালে। নাটকে ক্ষয়িষ্ণু জমিদার হাতেম আলির একমাত্র ছেলে হাশেম আলি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক। এজন্য হাশেম আলি পির প্রথায় বিশ্বাস করে না। তাদের বজরায় আশ্রয় নেয়া তাহেরা পির প্রথার নির্মম শিকার। তাই সে মা-বাবার অগাধ বিশ্বাসকে ভূলুণ্ঠিত করে পির প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাহেরার বাস্তব অসহায় অবস্থার কথা শুনে তাহেরার পক্ষে এবং পির প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

উদ্দীপকের আলী সাহেব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত আধুনিক ভাবধারার লোক। সে পির প্রথায় বিশ্বাস করে না। কিন্তু তার মা আবহমান বাঙালি নারী। তার মজ্জায় মিশে আছে পিরকে আল্লাহর বিশেষ বান্দা হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতা। এ কারণে পানিপড়ার মাধ্যমে ছেলের সন্তান লাভের প্রত্যাশা পূরণে বিশ্বাসী। কিন্তু আলী সাহেব মায়ের এসব চিন্তা-ধারাকে প্রত্যাখ্যান করে ডাক্তারের দ্বারস্থ হন।

উদ্দীপকের আলী সাহেব এবং 'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলি উভয়েই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তার সমাজে প্রচলিত পির প্রথার বিশ্বাস করে না। উভয়েই সমাজ থেকে এই কুপ্রথা বিলুপ্তির পক্ষে। তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে। তাই বলা যায়, পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের আলী সাহেব ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম একই চেতনায় উজ্জীবিত মন্তব্যটি যথার্থ।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আলী সাহেব বিয়ে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”