এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক শহর আলি কবিরাজ। রোগ-শোক, দুঃখ-দুর্দশায় সবাই ছোটে তার শিকড়-বাকড়, তাবিজ-কবচ ও পানি পড়ার জন্য। তিনিও কাউকে ফিরান না। হাদিয়া হিসেবে সবাই যা দেয় তাতে স্বচ্ছলভাবে চলে তার পরিবার। কিন্তু একাজ পছন্দ করে না তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে মোবারক। সে মনে করে এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাহলে সারা পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞান এগুলোকে স্বীকৃতি দিত। তাই সে বাবাকে এসব কাজ ছেড়ে দিতে বলে।
তাহেরার মতে, পির সাহেব বুদ্ধিমান লোক।
বেড়ালের ভাব বলতে, পির সাহেবের আপাতশান্ত ও কৌশলি ভাবমূর্তিকে বোঝানো হয়েছে।
‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীর নিজে বৃদ্ধ হয়েও বিয়ে করেন তরুণী তাহেরাকে। তাহেরা এ বিয়ে মেনে না নিয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেয় খোদেজা ও হাশেমদের বজরায়। এদিকে বহিপীরও তাহেরাকে খুঁজতে এসে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে ঐ বজরায়ই আশ্রয় নেয়। তারপর বহিপীর খোদেজার কাছ থেকে জানতে পারে তার স্ত্রী তাহেরা এ বজরাতেই আছে। খবরটি শুনে পীর সাহেব শোকর আদায় করে সংযত হয়ে রইলেন। অথচ হাশেম ভেবেছিল খবরটি শুনে পির সাহেব কিছু একটা করে বসবেন। কিন্তু পির সাহেব সাবধানী লোক। খবরটি শুনে তিনি তেমন উত্তেজিত হননি। তিনি এমন ভাব দেখালেন, যেন কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব নেই, সবই ঠিক আছে। এ ভাবটিকে হাশেম পির সাহেবের বেড়ালের ভাব বলেছেন।
উদ্দীপকের শহর আলি কবিরাজ ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীর চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
সমাজের অনেক মানুষই ধর্মভীরু। এদের মধ্যে ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ নানা সমস্যা মোকাবিলা ও সওয়াবের আশায় পিরের মুরিদ হয়। এমন অনেকে আছে যারা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে হলেও পিরের সেবা করে। অথচ তারা জানে না যে, তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ভড পিরেরা নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়।
উদ্দীপকে ধর্মভীরুতা ও কুসংস্কারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এখানে শহর আলি কবিরাজকে এলাকার মানুষের আস্থার প্রতিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। রোগ-শোক, দুঃখ-দুর্শশায় সবাই ছোটো তার শিকড়-বাকড়, তাবিজ-কবচ ও পানি পড়ার জন্য। এখানে আমরা যে চিত্র দেখতে পাই তাতে সমাজের এক শ্রণির মানুষের পিরের প্রতি অন্ধবিশ্বাসের চিত্র ফুটে ওঠেছে। এখানে মানুষ পিরকে স্রষ্টার আসনে বসিয়ে তারা সেবা করে ও নানা কর্মকাণ্ডে পিরের অলৌকিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। অপরদিকে, ‘বহিপীর’ নাটকেও তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন মানুষকে পিরের জন্য সর্বস্ব ত্যাগস্বীকারের কথা উঠে এসেছে। এমনকি তাহেরার বাবা-মা একজন বুড়ো পিরের কাছে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতেও পিছপা হয় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শহর আলি কবিরাজ বহিপীরের প্রতিনিধিত্ব করে।
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মোবারক ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম সমচেতনায় বিশ্বাসী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের মোবারক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, মানবিক গুণে গুণান্বিত একটি চরিত্র। তাই তার মধ্যে বাস্তবতার নিরিখে কুসংস্কারমুক্ত চিন্তা-চেতনার লক্ষণ প্রকাশিত। অপরদিকে 'বহিপীর' নাটকের হাশেমও সমচেতনায় বিশ্বাসী। সেও কোনোরূপ কুসংস্কার সমর্থন করে না। তার মধ্যেও আমরা আধুনিক ও বাস্তববাদী চেতনা লক্ষ্য করি।
উদ্দীপকের মোবারক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে। সে তার বাবার কর্মকান্ড সমর্থন করে না। সে তার বাবার শিকড়-বাকড়, তাবিজ-কবচ ও পানি পড়াকে বিশ্বাস করে না। তার মতে, এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এসবের যদি গ্রহণযোগ্যতা থাকত তবে সারা পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞান স্বীকৃতি দিত। তাই সে তার বাবাকে এসব ছেড়ে দিতে বলে। 'বহিপীর' নাটকে হাশেম বহিপীরের সাথে তাহেরার বিয়েকে সমর্থন করে না। এ নিয়ে সে তার মায়ের সাথে বিভিন্ন যুক্তিতর্কে সামিল হয়। সে তার মাকে বুঝাতে চেষ্টা করে তাহেরা এ বিয়েতে রাজি নয়। তাই এ বিয়ে হয়নি। তার মা বিভিন্নভাবে বুঝাতে চেষ্টা করে যে, এ বিয়ে হয়েছে এবং তাহেরাকে পিরের সাথেই চলে যেতে হবে। হাশেম প্রতিবাদ করে এবং দরকার হলে নিজে তাহেরাকে বিয়ে করে পিরের গ্রাস থেকে মুক্তি দিবে। যা তার মা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। এক্ষেত্রে সে চরম অবাধ্য হতেও প্রস্তুত। তাই বলা যায়, "প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মোবারক ও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম সমচেতনায় বিশ্বাসী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
