রশিদ সাহেবের আবাসিক প্রকল্প সাইমাবাদের মধ্যে জাহিদের টিনের বাড়িটি একমাত্র আবাসস্থল। প্রভাবশালী রশিদ সাহেব বিনা নোটিশে লোক দিয়ে জাহিদদের বাড়িটি ভেঙে দেয়। নিরুপায় হয়ে জাহিদ তার বাল্যবন্ধু পুলিশের এসআই মুহিত হাসানকে বিষয়টি জানায়। মুহিত হাসান বাড়ির দলিলপত্র দেখে প্রশাসনিক ক্ষমতায় জাহিদের একমাত্র আশ্রয়টুকু ফিরিয়ে দেন। জাহিদ এরকম দখলদার দের হাত থেকে নিরীহ মানুষদের উদ্ধার করতে অনুরোধ করে।
বাতাস দয়ালু মেঘের সাথি।
গরিবদের ওপর প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা প্রসঙ্গে কবি আক্ষেপের স্বরে চরণটির অবতারণা করেছেন।
'বোশেখ' কবিতায় কবি আক্ষেপের স্বরে বলেন বৈশাখের আক্রমণ যেন শুধু গরিবদের ওপর বয়ে যায়। কিন্তু যারা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তাদের সেই অট্টালিকায় আঘাত হানার কোনো চিহ্ন কবি খুঁজে পান না। সাম্যের প্রতিষ্ঠায়, সুবিচারের প্রসঙ্গে তিনি রাজা সোলেমানের কথাও বলেছেন, যে সোলেমানের বাহন ছিল বাতাস।
শোষকশ্রেণির গরিব-দুঃখীর ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ বিবেচনায় উদ্দীপকের জাহিদের পরিস্থিতি 'বোশেখ' কবিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
'বোশেখ' কবিতায় আল মাহমুদ কেবল বৈশাখের ধ্বংসলীলার বর্ণনার পাশাপাশি তিনি এর মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তিনি বৈশাখের কাছে আহ্বান করেছেন- ধ্বংস যদি করতেই হয় তাহলে গুঁড়িয়ে দাও সেসব অট্টালিকা যেগুলো গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। কবি বৈশাখের ধ্বংসশক্তিকে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার আহ্বান জনিয়েছেন।
উদ্দীপকের জাহিদ শোষিত ও অত্যাচারিত শ্রেণির প্রতিচ্ছবি। নিজের আবাসিক প্রকল্পের স্বার্থে রশিদ সাহেব বিনা নোটিশে জাহিদদের বাড়িটি ভেঙে দেয়। জাহিদ এরকম দখলদার, শোষক ও অত্যাচারী শ্রেণির হাত থেকে মানুষের মুক্তি কামনা করেছে। 'বোশেখ' কবিতায় কবি আল মাহমুদ বৈশাখের' কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যে, গরিব-দুঃখীর বিরুদ্ধে যেন বৈশাখ নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা না দেখায়। বৈশাখ যদি ধ্বংস করতেই চায় তাহলে যেন শোষক ও অত্যাচারী শ্রেণির অট্টালিকা ধ্বংস করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈশাখের করাল গ্রাসে পড়ে দুঃখী-দরিদ্র মানুষ ও অসহায় কোনো প্রাণী। এভাবে জাহিদের পরিস্থিতি 'বোশেখ' কবিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন কবি, অন্যদিকে মুহিত হাসান অত্যাচারীর হাত থেকে নিরীহ মানুষকে উদ্ধার করেছেন বলে বলা যায়, "উদ্দীপকের মুহিত হাসান 'বোশেখ' কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছেন" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বোশেখ' কবিতায় কবি তুফানকে অনুরোধ করেছেন, যদি ধ্বংস করতেই হয় তবে গরিবের ঘর নয়, বরং অত্যাচারী ধনীদের অট্টালিকা ধ্বংস করো। কবি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান জানান এবং দুর্বলের প্রতি সহানুভূতি ও সত্যের প্রতি দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।
উদ্দীপকের মুহিত হাসান বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি পুলিশের এসআই হওয়ায় প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে অত্যাচারী দখলদার রশিদ সাহেবের অত্যাচার দমন করেছেন। বন্ধুর একমাত্র আশ্রয়টুকু তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। 'বোশেখ' কবিতায়ও কবি বৈশাখের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যেন বৈশাখ সাধারণ নিরীহ মানুষের ক্ষতি না করে অত্যাচারী শ্রেণিকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকের মুহিত হাসান অত্যাচারী ও শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। 'বোশেখ' কবিতার কবি আল মাহমুদ বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মাধ্যমে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা সব কেন শুধু এই গরিবের বিরুদ্ধেই ঘটবে? তাই তিনি বৈশাখের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন- ধ্বংস যদি করতেই হয়, তাহলে গুঁড়িয়ে দাও সেসব অট্টালিকা যেগুলো গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। কবির এই আকাঙ্ক্ষার ছাপ বাস্তবায়নের আমরা মুহিত হাসানের মধ্যে দেখতে পাই। কেননা তিনি অত্যাচারীর হাত থেকে সাধারণের একমাত্র আবাসস্থল ফিরিয়ে এনেছেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
