১৯৪৭ থেকে ২০২৪ এই সময়গুলো বাঙালির অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। কত রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা স্বাধীন দেশ! সময়ের পালাবদলে আজও আমরা অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছি। এখন লড়াই হয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অর্থনৈতিক মুক্তির এবং ধর্মনিরপেক্ষতার লড়াই।
কবি শামসুর রাহমান ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে সাকিনা বিবির স্বামী মারা যাওয়ায় তার কপাল ভাঙলো।
এ দেশের লাখো মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বর আক্রমণে শহিদদের একজন সাকিনা বিবির স্বামী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশের জন্য সাকিনা বিবির মতো গ্রামীণ নারীদের সহায়-সম্বল-সম্ভ্রম বিসর্জিত হয়েছে। সাকিনা বিবি এখানে মুক্তিযুদ্ধে স্বামী, সম্ভ্রম হারানো নারীদের প্রতিনিধি। প্রশ্নোক্ত কথাটিতে এই ভাবটিই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাঙালির আত্মত্যাগ তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে বাঙালিকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। অনেক রক্ত, সহায়-সম্বল ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৯ বা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের স্বাধীনতাকামী জনতা সকল অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বারবার সংগ্রাম করেছে এবং বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও কবি দেশবাসীর ওপর তাদের অমানুষিক হত্যা-নির্যাতন এবং স্বাধীনতাকামী জনতার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের চিত্র তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার বিদেশি অপশক্তির অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের দিকটি ফুটে উঠেছে।
কেবল বাঙালির সংগ্রামের দিকটি তুলে ধরায় উদ্দীপকটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মূলভাব ধারণ করতে পারেনি।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে পথ অতিক্রম করতে হয় সেই পথের বর্ণনা দিয়েছেন। স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি অধিকার যা মানুষ জন্মগতভাবে পেয়ে থাকে। এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালি জাতিকে দীর্ঘকাল সংগ্রাম করতে হয়েছে। অপরিসীম আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি দেখতে পেয়েছে স্বাধীনতার লাল সূর্য।
উদ্দীপকে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেখানে ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে দেশবাসীর সংগ্রামী ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি এ দেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের অন্যায় আগ্রাসন এবং এর বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রতিরোধ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, ছাত্র প্রভৃতি মানুষের উপর নির্মম নিপীড়ন ও গণহত্যার নানা দিক তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সকল শ্রেণির মানুষের আত্মত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেছেন, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতার জন্য এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা উঠে এসেছে, যা উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মূলভাব ধারণ করতে পারেনি।
