রহিমন বিবি মুক্তিযুদ্ধে স্বামী, সন্তান হারিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছেন আজ। তিনি দেখেছেন নদীতে, রাস্তা-ঘাটে, বন-জঙ্গলে অসংখ্য লাশ। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাড়ি দিয়েছে দূর-দূরান্তের পথ। অথচ একমাত্র সন্তান রহমত জীবন দিয়ে তাকে উপহার দিয়েছেন স্বাধীন মানচিত্র। তাই তো রহিমন বিবির চোখে আটকে থাকে লাল-সবুজ পতাকা।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় দগ্ধ ঘরের খুঁটি ধরে মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে।
কবি 'খাণ্ডবদাহন' দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞকে বুঝিয়েছেন।
খাণ্ডব মূলত মহাভারতে উল্লিখিত একটি বিখ্যাত অরণ্য, যা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্বিচারে ধ্বংস করা হয়েছিল অরণ্যের প্রায় সব প্রাণীকে। পাকিস্তানি হানাদাররাও এভাবেই শহর ও গ্রামের পর গ্রাম, বাজার পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করেছিল। কবি 'খাণ্ডবদাহন' কথাটি দিয়ে পাকিস্তানিদের অত্যাচারের তীব্রতাকে বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপকে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি স্বাধীনতা অর্জনে সর্বস্তরের বাঙালির সংগ্রামী চেতনা ও বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের দিকটি তুলে ধরেছেন। তারা এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালায়। ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ এদেশের সাধারণ মানুষকে তারা নির্বিচারে হত্যা করে, আগুন দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি বস্তি পুড়িয়ে দেয়। নারীর ওপরে নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। তাদের হাত থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশে নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছিল।
উদ্দীপকে রহিমন বিবি মুক্তিযুদ্ধে স্বামী, সন্তান হারিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসতে দেখা যায়। তিনি পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতনের সাক্ষী হয়েছেন। দেখেছেন নদী, রাস্তা-ঘাট, বন-জঙ্গলের সর্বত্রই লাশের ছড়াছড়ি। অগণিত মানুষ তখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দূরদূরান্তে পাড়ি জমিয়েছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রাবাস, বস্তি ছারখার করেছে। পুড়িয়ে দিয়েছে গ্রাম ও শহর। তারা নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে বাঙালি জাতিকে। এভাবে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার চিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমন বিবির ছেলের মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।"- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত বিষয়টি ও উদ্দীপকের বিষয়টি একসূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্যটি যথার্থ।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতা আনয়নে বাঙালির আত্মত্যাগের বর্ণনা পাওয়া যায়। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে আপামর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে রহিমন বিবির মতো অসংখ্য গ্রামীণ নারীর সহায়-সম্বল-সম্ভ্রম বিসর্জিত হয়েছে, হরিদাসী হয়েছে স্বামীহারা, নবজাতক হারিয়েছে মা-বাবাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিমন বিবি মুক্তিযুদ্ধে তার স্বামী-সন্তানকে হারিয়েছেন। তার একমাত্র সন্তান নিজের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন মানচিত্র উপহার দিয়েছেন। তার মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতাটিতে এমনই অনেক আত্মত্যাগের পরিচয় পাওয়া যায়।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের কথা বলেছেন। এ দেশের শ্রমিক, কৃষক, জেলে, রিকশাওয়ালাসহ সাধারণ মানুষও আত্মত্যাগ করেছে। তাদের সবার আত্মত্যাগেই অর্জিত হয়েছে কাঙ্ক্ষিত বিজয়। তাই 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার আলোকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
