A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘”দিন নেই রাত…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – রানার, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: বরিশাল বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

“দিন নেই রাত নেই

হাড় ভাঙা পরিশ্রমের শেষ নেই

বৃষ্টি হোক রোদ হোক

কাজ করি সারাহ্মণ

তবেই মিলে মজুরি

যার ফলে দু-মুঠো অন্ন খেতে পারি।

এদেহে যতদিন আছে প্রাণ

ততদিন করে যাব আমি সত্যের জয়গান।”

উত্তর:

রানার নতুন খবর আনার কাজ নিয়েছে।

উত্তর:

ঘরে অভাব থাকায় রানারের কাছে পৃথিবীটা ‘কালো ধোঁয়া’ মনে হয়।

রানার মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সংবাদ পিঠে বহন করে চলে। অথচ তার জীবনে দুঃখের অন্ত নেই। অভাবের কারণে সে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই তার কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়ার মতো মনে হয়। সেখানে কোনো আশার আলো নেই। কেবলি হতাশার ঘন মেঘ ঢেকে থাকে।

উত্তর:

উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণের সঙ্গে ‘রানার’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো ভীরুতা পিছনে ফেলে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।

‘রানার’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রানারের দুঃসাহসিক কর্মকান্ড তুলে ধরেছেন। রানার অত্যন্ত সাহসী। সে অকুতোভয় চরিত্রের অধিকারী। দুর্গম পথে সে একাকী গভীর রাতে চলাচল করে। তার মনে বিন্দুমাত্র মৃত্যুর ভয় নেই। দস্যুর ভয়ে সে ভীত নয়। সে দুর্বার গতিতে খবরের বোঝা কাঁধে নিয়ে ছুটে চলে। রানার তার অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। দায়িত্ব পালনে তার কোনো অবহেলা নেই। দস্যুর ভয়ের চেয়ে সে সূর্য ওঠাকে বেশি ভয় করে। কারণ সূর্য ওঠার আগেই তাকে গন্তব্যে পৌছাতে হবে। রানারের এ কর্মকাড থেকে তার একনিষ্ঠ শ্রম ও অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে বলা হয়েছে, এদেহে যতদিন প্রাণ আছে ততদিন সত্যের গান গেয়ে যাব। অর্থাৎ উদ্দীপকের কবি আমরণ সত্যের পথে অধিষ্ঠিত থাকবেন। কোনো অন্যায়-অপকর্মে নিজেকে জড়াবেন না। উদ্দীপকের এ ভাবার্থের সঙ্গে ‘রানার’ কবিতার রানারের কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া যায়। রানারের দেহে যতক্ষণ প্রাণ আছে ততক্ষণ অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো কিছুর ভয়ে রানার ভীত হবে না। রানার তার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবেই পালন করবে। আর এ দিকটি ‘রানার’ কবিতার রানারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তর:

"উদ্দীপকের প্রথমাংশের ভাবার্থ 'রানার' কবিতার মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ।" মন্তব্যটি যথার্থ।

'রানার' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রানারের জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন। রানার অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। সে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। কিন্তু বিনিময়ে অতি সামান্য বেতন পান। যা দিয়ে কোনো রকমে তার সংসার চলে। রানারের তাই বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সে দায়িত্বপালন না করলে বেতন থকে বঞ্চিত হবে। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্যই রানার দুর্বার গতিতে ছুটে চলে। উদ্দীপকে কঠোর পরিশ্রমের দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করি। রোদ হোক বৃষ্টি হোক কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই কাজ থেমে থাকে না। কারণ সারাক্ষণ কাজ করার বিনিময়ে মজুরি মিলে। যার ফলে দু-মুঠো অন্ন জোটে। কাজ না করলে অনাহারে থাকতে হবে। দারিদ্র্যতার কবলে পড়ে সারাদিন শুধু কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়।

উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথমাংশে কঠোর পরিশ্রম ও দারিদ্র্যতার দিকটি ফুটে উঠেছে। দু-মুঠো অন্নের জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রমের কথা বলা হয়েছে। 'রানার' কবিতায় রানার চরম দারিদ্র্যতার শিকার। তাকেও দু-মুঠো অন্নের জন্য সারাক্ষণ চিঠির বোঝা নিয়ে গন্তব্যপানে ছুটে চলতে হয়। উদ্দীপকের ন্যায় রানার অতি অল্প বেতনে কঠোর পরিশ্রম করে। প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা থাকলেও কঠোর পরিশ্রম ও দারিদ্র্যতার দিক দিয়ে 'রানার' কবিতার মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায় মন্তব্যটি যথার্থ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘”দিন নেই রাত…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – রানার, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”