উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন শিহাব। জীবনের শেষ বয়সে এসে শৈশবের স্মৃতি তাঁর মনে বারবার ভেসে ওঠে। কুয়াশাভেজা ভোর, ফসলের মাঠ, বর্ষার নদীতে মাছ ধরা প্রভৃতি ঘটনা শিহাবকে স্মৃতিকাতর করে তোলে। দেশে ফিরে আসতে চাইলেও স্ত্রী-সন্তানেরা রাজি হয়নি। তাঁর স্ত্রী বলেন “দেশে তোমার কে আছে?” উত্তরে শিহাব বলেন, “দেশেই তো আমার শিকড়।”
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় মাছরাঙা ডুমুরের ডালে বসে থাকে।
"আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি।"- কথাটির দ্বারা কবি স্বপ্নময় স্বদেশের সঙ্গে মিলে থাকাকে বুঝিয়েছেন।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। তিনি যে দেশে জন্মেছেন সেই দেশটি স্বপ্নময়। সেই দেশের গ্রাম, গ্রামীণ প্রকৃতি ও জনজীবন প্রায় একই ধরনের স্বপ্নের স্পর্শ মাখা। তিনিও সেই স্বপ্নময়তাকে ধারণ করেই বেড়ে উঠেছেন। অবাধ ও অবারিত স্বপ্নের মতো তিনি সেখানে ছিলেন, এখনো তিনি সারা দেশের অস্তিত্বের সঙ্গেই মিশে আছেন।
উদ্দীপকের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পৃক্ততার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবনের সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব জড়িত। এই অনুভূতিই তিনি আন্তরিক মমতায় সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের শিহাব বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও শেষ জীবনে জন্মভূমির সঙ্গে হৃদয়ের সম্পৃক্ততা অনুভব করেন। দেশে ফিরে আসতে চাইলেও স্ত্রী-সন্তানেরা রাজি হয়নি। তবে তাঁর কাছে জন্মভূমিই তাঁর শিকড়, তাঁর অস্তিত্ব। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির সঙ্গেও জন্মভূমির সম্পর্ক নাড়ির। জন্মভূমির সবকিছুই তিনি আপন সত্তায় অনুভব করেন। এখানেই তিনি তাঁর অস্তিত্ব খুঁজে পান। উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতাটি এদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির মতো উদ্দীপকের শিহাবও তাঁর জন্মভূমির সঙ্গে শিকড়ের সম্পর্ক অনুভব করায় "দেশেই তো আমার শিকড়” মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় গ্রামীণ জনপদের মধ্যে কবি শেকড় খুঁজে পেয়েছেন। বাংলার নানা অনুষঙ্গ, প্রাকৃতিক উপাদান ঘিরে রয়েছে কবির অস্তিত্ব। এই অনুভূতি অন্তহীন। এভাবেই তিনি জন্মভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকের শিহাব জন্মভূমির সঙ্গে নাড়ির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও সত্তা থেকে জন্মভূমিকে মুছে ফেলতে পারেননি। শেষ জীবনে তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন জন্মভূমিকে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায়ও কবি জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা তুলে ধরেছেন। দেশের নানা উপাদান, অনুষঙ্গ তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির আত্মোপলব্ধির দিকটি ফুটে উঠেছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁর অস্তিত্বে মিশে থাকা গ্রামীণ জনপদের কথা। এদেশের প্রকৃতি ও মানুষ কবির সত্তায় গভীরভাবে মিশে আছে। এভাবেই তিনি দেশকে আপন সত্তায় অনুভব করেছেন। উদ্দীপকের শিহাবও বিদেশে থেকে দেশকে গভীরভাবে অনুভব করেছেন, দেশের মাঝেই নিজের শেকড়কে খুঁজে পেয়েছেন। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।
